রাজবাড়ীতে কমরেড মহেন্দ্র কুমার দাসের স্মরণে শোকসভা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বালিয়াকান্দি উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড মহেন্দ্র কুমার দাসের প্রয়ানে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ শ্লোগান সামনে রেখে রাজবাড়ী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে এই শোকসভার আয়োজন করা হয়।


শহরের রেলস্টেশন এলাকায় রেলশ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন কমিউনিস্ট পার্টির রাজবাড়ী জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড আবদুস সামাদ মিয়া। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড রফিকুজ্জামান লায়েক। সভা সঞ্চালনা করেন কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আবুল কালাম। এতে বক্তব্য দেন কমিউনিস্ট পার্টি ফরিদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড অরুন কুমার শীল, রাজবাড়ী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বাবন চক্রবর্তী, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য এজাজ আহম্মেদ, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার মন্ডল, কমিউনিস্ট পার্টির সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ধীরেন্দ্রনাথ দাস। সভায় কমিউনিস্ট পার্টি ও বন্ধুসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহন করেন। সভার শুরুতে প্রয়াত নেতার স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়।


বক্তারা বলেন, আজীবন সমাজতন্ত্রের লড়াইয়ে অগ্রসৈনিক ছিলেন সহযোদ্ধা প্রয়াত কমরেড মহেন্দ্র কুমার দাস। তিনি রাজনৈতিক বিভিন্ন চড়াই-উৎড়াই পার করেছেন। কিন্তু কখনো তিনি তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। শ্রেনি সংগ্রাম থেকে কখনো নিজেকে গুটিয়ে নেননি। তিনি ছিলেন সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের এক মূর্ত প্রতীক। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেকেই পার্টি ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু তিনি কখনো হতাশাগ্রস্থ হন নাই। বুক দিয়ে পার্টি আগলে রেখেছেন। মার্ক্সবাদ-লেলিনবাদের ওপর সব সময় আস্থা রেখেছেন। আজীবন পার্টির আর্দশ বুকে ধারণ করেছেন, লালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পার্টি হারিয়েছে এক স্বপ্নবান তরুণকে। কমরেড মহেন্দ্র কুমার দাসের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্টির চেতনাকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

প্রসঙ্গত, কমরেড মহেন্দ্র কুমার দাস ২৯ জুন ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। বৃহত্তর ফরিদপুর কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, রাজবাড়ী জেলা কমিটির সদস্য ও বালিয়াকান্দি উপজেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মারা যাওয়ার সময় স্ত্রী, চার ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

(Visited 49 times, 1 visits today)