বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য কর্মকর্তা আমিরুল করিম: আজরা জেবিন তুলি –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :


আজকের গল্প এক কিংবদন্তি কর্মকর্তা যার দক্ষতা উদারতা এবং পরোপকারের গল্প খানিকটা রুপ কথার মত, বাংলার অনেক এলাকায় তিনি দাতা হাতেম তাই আবার কারো কাছে কলজেওয়ালা ডিসি। তিনি হলেন, রাজবাড়ীর সাবেক জনবান্ধব জেলা প্রশাসক আমিরুল করিম ।
১৯৪৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামে জন্ম তার। বাবা আজম খান ও মা বদরুন্নেসার ছয় ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তিনি পঞ্চম।


১৯৭৩ সালে স্পেশাল বিসিএস আইএমএস ক্যাডার হওয়ার দুর্লভ সুযোগ পান। বঙ্গবন্ধু তাকে এতটাই পছন্দ করতেন, যে নিয়মিত অফিস যাওয়ার পথে পিঠ চাপড়ে অথবা সালাম বিনিময় করতেন তিনি।
শিক্ষা জীবনে তিনি ছিলেন তুখোড় ছাত্র সেরা ফুলবল খেলোয়াড়। খাল্লা রুপসদি বৃন্দাবন হাইস্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এস এস সি, ১৯৬৫ তে নটরডেম কলেজ ঢাকা থেকে এইচ এস সি ১৯৬৭ তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এ এবং ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন।


দুর্দান্ত এই ছাত্র নেতা NSF (National student Federation) কে হটিয়ে ততকালীন জগন্নাথ কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতি কায়েম করে।
একই ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ততকালীন ঢাকা হল বর্তমানে শহিদুল্লাহ হল GI NSF কে সরিয়ে প্রথম ছাত্রলীগের রাজনীতি কায়েম করেন এবং কমিটি গঠন করেন। ১৯৬৯ গন অভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান আমলের ছাত্র হয়েও উর্দুভাষায় অপারদর্শী এবং অনিহা তাকে অনেক খানি বিরম্বিত করতো।তবুও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অগাধ আস্হা রেখেই নিজেকে তৈরি করেছেন এই অকুতোভয় সংগ্রামী নেতা।


বর্ণিল এক কর্মজীবনে তিনি ছিলেন অনুকরণীয় UMC জুট মিলের সিনিয়র অফিসার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করার পর থেকে তাকে আর পেছন ফিরতে হয় নি এক এক করে ৩ টি জুট মিলের অফিসার পথে কর্মরত থেকে তিনি পশ্চিম জার্মানি, রাশিয়া সহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশে ট্রেনিং সস্পন্ন করেন। পরবর্তী তে ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট বংগবন্ধুর সপরিবারে নির্মম শাহাদাত বরনের পরে খানিক টা নিগৃহীত হয়েই পিছিয়ে থাকেন। পরবর্তী তে সামরিক শাসনামলে তিনি বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার প্রথম ইউ এন ও হিসাবে দায়িত্ব পান এবং এক এক করে রাংগামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট এ দায়িত্ব পালন করেন নেত্রীত্ত্ব দেওয়ার গুনাবলী, মেধাবী এই দক্ষ অফিসার কে আরো শানিত করেছে। যার ফলশ্রুতিতে শরিয়তপুর এবং লালমনিরহাটের ADC র দায়িত্ব ও দক্ষতার সাথে পালন করেন।
পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ডায়রেক্টর হন এবং অসংখ্য মানুষ কে বিনা পয়সায় চাকরি দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি আসেন আমাদের শহরে সুযোগ্য, দরদী ও দক্ষ প্রশাসক হিসাবে রাজবাড়ী বাসির মনে তিনি শ্রদ্ধায় রয়েছেন। অসংখ্যা এতিম অসহায়, ওমেদার এমন কি ভিক্ষুক কেও বিনা পয়সায় চাকুরি দেওয়ার নজির রয়েছে।


তার কর্মকালীন সময় ছিল সুশাসন, এবং অন্তরিকতার এক অদ্ভুত কাল। যা চীর স্মরণীয়।
এই উদার মনের মহতপ্রান মানুষ পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্টেশনারিতে উপ নিয়ন্ত্রক এবং পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক হিসাবে বাংলাদেশ ফরমস ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ছিলেন। সেখানেও তার কর্মদক্ষতার সাক্ষর ভাষাতীত। বিজি প্রেসের মুল ভবন নির্মাণ, কোয়ার্টার নির্মাণ, পদমর্যাদা অনুযায়ী পদবিন্যাস, বিভিন্ন শাখা কে কাজের ধরন অনুযায়ী বিন্যাস এবং সর্বোপরি অসংখ্য মানুষ কে শুন্যপদে নিয়োগ।
আজন্ম অকুতোভয় দুঃসাহসী এই মানুষ টাকে ২০০৬ সালের OSD হতে হয়। নিজ জেলায় ৩ টি স্কুল, ১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকে উন্নিতকরন সহ মসজিদ, কবরস্থানে উন্নয়নে অবদান রাখেন।
বর্ণীল এবং জনবান্ধব মানুষ টি আমার চাকুরী টিও তার কৃপায়। মহান আল্লাহর কছে মহান প্রার্থনা শ্রদ্ধাভাজন স্যার কে হায়াত দান করুন। সুস্থ রাখুন।


লেখক- আজরা জেবিন তুলি, মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশন রাজবাড়ী শাখার সভাপতি, বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত অভিনেত্রী, মঞ্চ ও আবৃত্তি শিল্পী।

(Visited 227 times, 1 visits today)