কদর বেড়েছে মুঠোফোনের: তানি –

হাতগুলো ছোঁয়াছূয়ির ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান পানিতে আবদ্ধ। লকডাউনে দরজা বন্ধ করতেই স্বচ্ছ নীল আকাশ দেখার ব্যাকুলতা, সুস্থ প্রকৃতিতে শ্বাস নেবার আকুলতা হয়েছে আপন। ব্যাস্ততা বেড়েছে গৃহীনীর, দীর্ঘশ্বাস বেড়েছে চায়ের দোকানের।


আবদ্ধ পশুপাখি প্রাণ ভরে নিচ্ছে শ্বাস, আর মানুষ তার চার দেয়ালে হিসেব কষছে অসহায়ত্বের। প্রতিদিনের হিসেব হারিয়ে ম্লান হচ্ছে-দেয়ালের ঘড়ির কাটায় আর ক্যালেন্ডারের তারিখে। সেই কবে ব্যাস্ততায় কাটিয়েছিলাম বাইরে, তা যেনো স্বপ্ন, ছবি আর স্মৃতিচিহ্ন মাত্র। নেই ব্যাস্ততা, নেই কাজে মনোযোগ, নেই টিভিতে ভালোলাগা। যা আছে তার সবটুকু যেনো বিস্বাদভরা। কদর বেড়েছে মুঠোফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের। প্রিয় মানুষ গুলো ঠোটে পড়েছে মাস্ক নামক ব্যারিকেড, আলিঙ্গনে হাজারো ভয়।


উৎসব গুলো হয়েছে নিঃস্প্রাণ,নিরানন্দে মুখরিত। লাশের ফর্দে যোগ হচ্ছে প্রতিনিয়ত নতুন নাম। সে সবের নেই কোনো জানাযা, নেই আপনজনের ছোঁয়া, নেই শেষকৃত্য, নেই ঘোষনা, নেই বিলাপ করে কান্নার শব্দ। যেটুকু আছে তার সবটুকুই কফিন উপহার আর বিদায়ের তাড়া। “সেরে ওঠো পৃথিবী”এক শ্লোগানে মুখরিত আজ বিশ্ববাসী।

লেখিকা- তানি, গৃহিনী, রাজবাড়ী।

(Visited 30 times, 1 visits today)