লকডাউন!

কবি সালাম তাসির

একরত্তি মেয়ে
গতকাল রাতে তার পোষা বিড়ালকে
লকডাউনের মন্ত্র শিখালো
আজ সারাদিন লক্ষ্মী খায় আর ঘুমায়
মেয়েটি ভাবে লক্ষ্মী কেন যে মানুষ হলো না
ভাই আমার মানুষ হয়েও বোঝে না জীবনের মানে।

প্রতিদিন নদীর আড়ালে জমা হয় মৃত্যু ভয়
মাছরাঙা পাখিটাও বোঝে নদীর দুঃখ
বোঝে ক্ষুধার জ্বালা; দু’দিন অনাহারে
অথচ মৃত্যু ভয়ে মাছগুলো জলের গভীরে।

কুড়িয়ে পাওয়া জোছনা রাতের মতো
মেয়েটি জড়িয়ে ধরে মা’কে
মা আঁধারের দুয়ার খুলে পা রাখে চাঁদের উঠোনে
মৃত্যু ভয় তাকেও মৃত্যুর কাছে নিয়ে যায়।

ভোরের কাক লকডাউনের বাতাসে উড়ছে
পেটে ক্ষুধা, মুখে বিরামহীন কা কা কা রব
কতটা অভুক্ত হলে এমন আহাজারি !
ওদের কষ্টের দায় কে নেবে বলো?

ভাইটা বড় হয়েছে অথচ লকডাউন বোঝে না
বোঝেনা দৈহিক দূরত্ব কিংবা কোয়ারিন্টিনের অর্থ
ও যেন পৃথিবীতে ফিরে আসা অন্য প্রজাতির মানুষ।

একদিন ভাইটার পথ আগলে রাখে লক্ষ্মী
চোখের ভাষায় বোঝাতে চায় বাইরে যেও না
তুমি লকডাউন বোঝ না?
মেয়েটি অবাক তাকিয়ে রয়, ঠোঁটে চাঁদের হাসি।

একদিন বাবার ওষুধ কিনতে মেয়েটি বাজারে
মন্দির মোড়ে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় !
মাথায় হাত,কপালে চোখ। হায় ঈশ্বর মানুষ কি তাহলে মৃত্যুকে জয় করেছে ?
নারী পুরুষের উপচে পড়া ঢল
একজন অন্যকে লেপ্টে আছে
বাসায় ফিরে লক্ষ্মীকে কোলে তুলে নেয় মেয়েটি
আদর ক’রে বিবেকহীন মানুষের গল্প শোনায়।

পরদিন থেকে লক্ষ্মীটি আর লকডাউন মানেনি।

সালাম তাসির
কবি, গীতিকার,নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।

(Visited 96 times, 1 visits today)