ভাবিনি মাস্কও জীবনের অংশ হয়ে যাবে:সোনিয়া আক্তার স্মৃতি-

সোনিয়া আক্তার স্মৃতি

আমি ১৯৭১ সালের যুদ্ধ দেখি নাই। ১৯৮৮ সালের বন্যাও দেখি নাই, মানুষের হাহা-কার সম্পর্কে পাঠ্য বই ইতিহাস থেকেই যতটুকু জানা।

লকডাউন কথাটার সাথে তেমন ভাবে পরিচিত ছিলাম না, গত তিন মাসে বুঝে গেছি লকডাউন কি। ধুলা আটকানোর জন্য মাস্ক পড়তে হবে এটা জানতাম। জানা ছিলো না মাস্ক জীবনের একটা অংশ হবে।

সরকার যখনি লকডাউনের ঘোষণা দিলো। ঠিক ওই মূহুর্তে দেখেছি, কিছু সংগঠন অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে।
অনেক অসহায় গরীব মানুষকে দেখেছি, বিভিন্ন সংগঠনের দেওয়া সাহায্য, এই সুযোগে ছুটাছুটি করে তিন চার মাসের খাবার মজুদ করতে। এ যেনও সাপে বর হয়ে এসেছে, অনেক মধ্যবিত্তদের লাইনে দাড়িয়ে সাহায্য নিতেও দেখেছি। তারা অনেকটা লজ্জাও পাচ্ছে, আবার পেটের ক্ষুদায় লাইনেও দাঁড়াতে হচ্ছে,,

দেখেছি ডাক্তাদের করোনা রোগীর পাশে মানবতার দুয়ার খুলে দাঁড়াতে,।
দেখেছি আইন শৃঙখলা বাহিনীর, মানুষকে ঘরে রাখতে বাধ্য করতে,,তাদের কথা অমান্য করে অনেকের বাইরে খুশিতে ঘুরতেও আসতে দেখেছি।

করোনার আক্রান্ত রোগী ঢাকা থেকে পালিয়ে এখানে সেখানে, ঘোড়ার খবর ও দেখেছি, এ যেনও ছেলে খেলা।

ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে,পরিবারের অন্য সদস্যদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার, খবর ও কম নেই।

তার উপরে এলো ঈদ, ঈদ মানেই আনন্দ ঈদ মানেই খুশী, আর এই খুশীটা যেনও, বাচ্চা বুড়ো সবার –ই।
সবাইকে ভার্চুয়াল জগতেই ঈদ মোবারক জানাচ্ছি, কাউকে বলতে পারছি না, বাসায় আসেন, খুব প্রয়োজনে দেখা করার, মানুষ গুলোকে, গেটের বাইরে থেকেই, কথা বলে বিদায় করে দিচ্ছি।

বাচ্চারা এই লকডাউন টা এমন ভাবে মেনে নিয়েছে যে, ঈদে নতুন জামা জুতা নিয়ে আবদার করার ও সাহস দেখাচ্ছে না।
নেই বাইরে ঘুরতে যাওয়ার আবদার,, ঘর বন্ধী থাকতে থাকতে ঘরটাই আপন করে নিয়েছে ওরা।
ওদের মানিয়ে নেওয়া দেখে, বুকের মাঝে হু হু করে কেঁদে ওঠে, বিধাতা কেনও এতো নারাজ ? কোন ভুলের এতো শাস্তি দিচ্ছে ?
হে পৃথিবী তুমি সুস্থ হও, মানুষের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দাও।

লেখিকা – সোনিয়া আক্তার স্মৃতি
পেশা – গৃহিণী /স্বেচ্ছাসেবী
প্রতিষ্ঠাতা – রাজবাড়ী ব্লাড ডোনার্স ক্লাব।

(Visited 437 times, 1 visits today)