“রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”: এ্যাডঃ মোস্তফা কবির –

প্রায় সকলেরই জানা এর স্রষ্টা কে? তবে কোন প্রেক্ষাপটে নজরুল এটা লিখেছিল তা হয়ত অনেকেই জানেন না । শ্যামা সঙ্গীতের ভীড়ে তখনকার দিনে ইসলামী সংগীত বাজারে চলা বড় দায় ছিল।তাই কেউ সাহস করে ইসলামী সংগীত রেকর্ডিং করে বাজারে ছাড়তেন না। কিন্তু শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের অনেক পীড়াপীড়িতে নজরুল এই সংগীত লিখে দেন।আর এটা বাজারে প্রচন্ডভাবে হিট হয়। তারপর থেকে প্রতি রমজানের ঈদে এটা মুসলমানদের নিকট অতি প্রিয় একটা সংগীত ।


যাহোক প্রসঙ্গ আমার এটা নয়। প্রসঙ্গ হলো ” করোনা কালিন ঈদ”
ঈদ প্রত্যেকটা মুসলমান নর-নারী ধনী-দরিদ্র সকলের কাছেই অত্যন্ত আনন্দের তাতে কোন সন্দেহ নাই । ঈদ মানেই নতুন কাপড় চোপড় কেনা আর মার্কেটিং এর ঘনঘটা। এই দিনটা প্রত্যেকটা মুসলমান অত্যন্ত আনন্দের সাথে পালন করে থাকেন।


কিন্তু এ বছরের এই করোনা কালিন ঈদ কি আর সেই ঈদ আছে? যেখানে করানোর ভয়াল থাবা মানুষের জীবনকে প্রতিমুহূর্তে কেড়ে নিচ্ছে। বিপর্যস্ত করে তুলেছে বিশ্ব মানব সভ্যতাকে।
এই ভীষণ ছোঁয়াচে রোগের কারণে কেউ মারা গেলে বা অসুস্থ হলে কাছে পর্যন্ত যাচ্ছে না।
কিন্তু ঈদ বলে কথা সেটা তো উদযাপন করতেই হয়। সেখানে কিসের করোনার ভয়? ভয় কে জয় করে ঈদের আনন্দ তো করতেই হবে।


তাইতো দেখা গেল সরকার হঠাৎ করে কিছু মার্কেট খোলার ঘোষণা করার সাথেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ল। আবার হঠাৎ করে ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি যাওয়ার ঘোষণা আসামাত্রই মানুষের জনস্রোত দেখে মনে হচ্ছে না করোনা বলতে পৃথিবীতে কিছু আছে এবং এটি এত ভয়ঙ্কর তা কারো চিন্তাতেই নাই।


করোনার ভয় কোন বিষয়ই না। ঈদ আগে করতে হবে ।তাইতো নাড়ির টানে বাড়ি ছুটে চলা। তবে হ্যা এটা যেমন আছে ঠিক উল্টোটা আবার আছে। অনেকেই করোনার ভয়তে ঈদে এবার তেমন কিছু করছেন না ।তারা ঘরে বসে আছেন।ঈদের মার্কেটিং করছেন না। ঈদ নিয়ে তেমনি তাদের মাতামাতি নেই।ভয়ের সাথে এখানে অর্থের সংকট ও জড়িত।
এখন আমার প্রশ্ন হল ঈদের জন্য জীবন, নাকি জীবনের জন্য ঈদ? একটা বছর ঈদের আনন্দ থেকে দূরে থাকলে এমন কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে? কিন্তু কিছু আমজনতার ভাব দেখে মনে হচ্ছে ঈদের জন্য জীবন ।


সাবধান! করোনা কাউকে করুনা করবে। না তাই বিধি নিষেধ মেনে চলুন । এক বছর ঈদের আনন্দ নাইবা করলেন তাতে কি?
লেখক- এ্যাডঃ মোস্তফা কবির, রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশন।

(Visited 67 times, 1 visits today)