রাজবাড়ীর করোনা যোদ্ধা ও করোনা ইউনিটের প্রধান ডাক্তার শামীম আহসানকে স্যালুট!-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

জেলার প্রতিটি উপজেলায় আইসোলেশন কর্ণার খোলা হলেও মুলত রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসে স্থাপিত ২০ শয্যা বিশিষ্ঠ ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) ইউনিটটিই মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। এই ইউনিটের কোডিনেটরের দায়িত্বে আছেন, হাসপাতালের মেডিসিন ও কোডিওলজির জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ শামীম আহসান।

তিনি বলেন, ‘গত ২৩ মার্চ থেকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) রোগিদের চিকিৎসার জন্য খেলা হয় এ ইউনিট। শুরু থেকেই এই ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছি।’

কোরানা পজেটিভ রোগিদের কেস ষ্টোরী শুনে ব্যবস্থাপত্র দেয়া এবং প্রতিনিয়ত তাদের আপডেট নিয়ে পর্যালোচনা করার কাজটি তিনি করে আসেন। হাসপাতাল থেকে জেলা শহরের বাসায় ফিরে গেলেও আইসোলোটেড রুমেই থাকেন তিনি। বাসার অন্য ঘরে বাবা ও মা থাকলেও কথা বলেন তিনি সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে। খাবার দাবারও খাচ্ছেন সেভাবেই। তার বাবা ও মা তাকে সব সময় সাহস যোগান। তার সহধর্মিণীও একজন চিকিৎসক, তাদের রয়েছে ৩ জন সন্তান। সহধর্মিণী সন্তানদের নিয়ে রাজধানী ঢাকায় থাকেন। ফলে রাজবাড়ী থেকে তিনি নিয়মিত ঢাকার বাসায় যাতায়াত করতেন। তবে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হবার পর গত আড়াই মাস আর তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে দেখা করতে পারেননি। তবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়।

তিনি বলেন, করোনা পজেটিভ রোগিদের দেখ ভালো করা অত্যান্ত কষ্টের ব্যাপার। অনেক ত্যাগ তাদের শিকার করতে হচ্ছে। আমরা সংসার সন্তান ফেলে, জীবনের সবচেয়ে বেশি ঝুকি নিয়ে করছি করোনা রোগিদের সেবা। তাদের সেবার কারণে ইতোমধ্যেই এ হাসপাতাল থেকে ১০ জন করোনা রোগি সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন। বর্তমানে যে ৬ জন ভর্তি আছে, তারাও ভালো হয়ে বাড়ী ফিরে যাবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


এই ইউনিটের ইনচার্জ ও সদর হাসপাতালের সিনিয়র ষ্টাফ নার্স আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, করোনা পজেটিভ কোন রোগি হাসপাতালে এলেই ডাঃ শামীম আহসানের নেতৃত্বে দায়িত্ব প্রাপ্ত অন্যান্য চিকিৎসকরা অত্যান্ত নিবেদিত ভাবে কাজ শুরু করেন। সেই সাথে অত্যান্ত ঝুকি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন, হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান নন্দ দুলাল ও শহিদুল ইসলাম। এই ইউনিটে তাদের সাথে আরো ১২ জন নার্স রয়েছেন। ওই সব নার্সরাও ১২ ঘন্টা সিফটে কাজ করে থাকছেন হাসপাতালে।

সুস্থ হবার পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ী ফেরা সকল করোনা পজেটিভ রোগিই রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।


সদ্য ছাড়পত্র পাওয়া বালিয়াকান্দির যুবক (১৯) বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ডা. শামীম আহসান সত্যিকার অর্থেই একজন ভালো ডাক্তার এবং ভালো মানুষ। তিনি আরো বলেন, আমি ঢাকায় কাজ করতাম, বেশ ভেঙ্গে পড়ছিলাম। ডা. শামীম স্যার যেভাবে আমাদের সাহস আর শক্তি যুগিয়ে চিকিৎসা করেছেন সেটা কোনদিন ভুলবার নয়।

হ্যাটস্ অফ রাজবাড়ীর করোনা যোদ্ধা ডাক্তার শামীম আহসান!

(Visited 1,497 times, 1 visits today)