মুচলেকা ও টাকা ফেরৎ দিয়ে রক্ষা পেলো রাজবাড়ীর ওয়ার্ল্ড ভিশন ২১ লিমিটেড থেকে আটক হওয়ারা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

মুচলেকা ও টাকা ফেরৎ দিয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে রাজবাড়ীর ওয়ার্ল্ড ভিশন ২১ লিমিটেড কার্যালয় থেকে আটক হওয়া চার জন ব্যক্তি। গত শনিবার রাতে তাদের রাজবাড়ী থানা হাজত থেকে মুক্তি দেয়া হয়।
মুক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের লালগোলা গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে মোঃ আইয়ুব আলী (৩৩), একই ইউনিয়নের ভবদিয়া গ্রামের জনাব আলী শেখের ছেলে এসএম রাশেদুল ইসলাম (২৪), সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের সূর্যনগর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মোঃ জুবায়েদ হোসেন (২০) ও একই ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের জিলাল সরদারের ছেলে আঞ্জু হোসেন (২০)।
রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, আটককৃতরা এই ধরণের প্রতারনা মূলক কারবার আর করবেন না এবং তারা যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তাদের সকলের টাকা ফেরৎ দেবেন মর্মে মুচলেকা দেয়ার পরই থানা হাজত থেকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, যদি কেউ টাকা না ফেরৎপান তাহলে তারা যেন নতুন করে থানায় অভিযোগ প্রদান করেন।
জানাগেছে, গত শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী জেলা শহরের সমবায় মার্কেটের তৃতীয় তলায় স্থাপিত ওয়ার্ল্ড ভিশন ২১ লিমিটেড কার্যালয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে। সেই সাথে ওই কার্যালয়ের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেয়ার পাশাপাশি চার জনকে পুলিশ আটক করে। থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ ছিলো, ওই কার্যালয় থেকে নি¤œমানের পন্য উচ্চ দামে বিক্রী করিয়ে তা থেকে বড় অংকের মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র চার শতাধিক শিক্ষার্থী ও বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
রাজবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামের রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে ও রাজবাড়ী সরকারী কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র রানা হাওলাদার বলেন, এক বছর পূর্বে সে একজন বন্ধুর মাধ্যমে এই কার্যালয়ে আসে। সে সময় তার মত আরো চার শতাধিক শিক্ষার্থী ও বেকার যুবক-যুবতীকে এখানে প্রশিক্ষণের জন্য ডেকে আনা হয়। তাদেরকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পন্য কিনলে তার কোড নম্বরে ১০০ পয়েন্ট এবং সাথে ৬০০ টাকা এবং ২ হাজার ৭০০ টাকার পন্য কিনলে ৫০ পয়েন্টসহ নগত ৩০০ টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তারা। যে যত পন্য মানুষকে গছিয়ে দিয়ে টাকা আনতে পারবে সে তত বেশি টাকা পাবে। এমন লোভনীয় অফারের কারণে তার মত অন্যান্য সবাই ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত এই কার্যালয়ে জমা দেন। তিনি তার দশ শ্রেণীতে পড়–য়া বোন অনিকা খাতুনকেও এখানে যুক্ত করেন। অনিকা এখানে জমা দিয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এই কার্যালয় থেকে তাদেরকে কোন পন্য অথবা টাকা ফেরত বা লভ্যাংশ দেয়া হয়নি। এমনি অবস্থায় তিনি রাজবাড়ী থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
গতকাল দুপুরে রাজবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলামের জিজ্ঞাসাবাদে একই ধরণের কথা বলেন, জেলা শহরের সজ্জনকান্দা গ্রামের তমেজ সরদারের ছেলে ও রাজবাড়ী সরকারী কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফ সরদার। সে ৮ মাস আগে দিছে ২ হাজার ৭০০ টাকা। সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের সিংগা গ্রামের গোলজার শেখের ছেলে ও জেলা শহরের ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র আব্দুল আহাদ শেখ বলেন, সে এখানে জমা দিয়েছে সাত হাজার টাকা।
আটক হওয়া রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের লালগোলা গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, তিনি ওই কার্যালয়ে একুশে ইলেক্ট্রনিক নামে প্রতিষ্ঠানের ডিলার হিসেবে ফ্রিজ, টিভি, গ্যাসের চুলাসাহ নানা ধরণে পন্যের সমারহ ঘটিয়েছেন। তারা এই সব পন্য প্রতিটি বাড়ীতে বাড়ীতে বিক্রির চেষ্টায় কিছু সংখ্যক বিক্রয়কারীকে নিয়োগ নিয়েছেন। তারা ৫০ জন এ ব্যাবসা পরিচালনা করছেন। নিয়োগ প্রাপ্তরা পন্য বিক্রির সাথে সাথেই তাদের কমিশন হাতে নিয়ে যাচ্ছে। কোন প্রতারণা করছেন না।
ওই কার্যালয়ে অভিযœ পরিচালনাকারী রাজবাড়ী থানার এসআই হিরণ কুমার বিশ^াস বলেন, প্রতারিতদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গতকাল দুপুরে তিনি ওই কার্যালয়ে যান। সে সময় কার্যালয়ে নারী পুরুষসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ অবস্থান করছিলো। ওই সময় তাকে দেখে এগিয়ে আসেন আটক হওয়া মোঃ আইয়ুব আলী। তিনি তাকে পাশের রুমে নিয়ে যান এবং কার্যালয় সংক্রান্ত কথা বলে সময় ক্ষেপন করেন। এরই মাঝে ওই অফিসে অবস্থানকারীদের সুকৌশলে বের করে দেয়া হয়। পরে ওই চার জনকে আটক করার পাশাপাশি অফিসের খাতাপত্র, ব্যানার জব্দ করা হয়। সেই সাথে ওই কার্যালয়টির প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়।

ফেসবুক থেকে এ ভিডিওটি দেখা না গেলে TV Rajbari লিখে ইউটিউবে সার্জ দিলেও দেখা যাবে।

(Visited 437 times, 1 visits today)