রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলছে দেশের সর্ববৃহৎ দেয়াল পত্রিকা উৎসব-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

DSC09489

রাজবাড়ী জেলা শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে শুরু হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগীতা ও উৎসব। ব্যতিক্রমী এ উৎসবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজসহ বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দপ্তর, ক্লাব ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয় শতাধিক দেয়াল উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই পত্রিকা গুলোতে ফুটে উঠেছে একুশে, স্বাধীনতা, বিজয় দিবস সহ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাদকের করাল গ্রাস থেকে দুরে থেকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করে নিজেদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
জানাগেছে, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে একুশে বই মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব উদ্যাপনের আয়োজন করা হয়েছে। ওই উৎসবে “দেয়াল পত্রিকা” প্রতিযোগীতা এবং তা প্রদর্শনের ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলার শিশুদের মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন, সৎ, দক্ষ, অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দেয়াল পত্রিকা অনুশীলনে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেই দেশের সর্ববৃহৎ এ দেয়াল পত্রিকার উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে।
রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শারমিন আক্তার, রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র আরিফুল ইসলাম বলে, সাধারণত তাদের মনের আবেগ অনুভূতির বিষয় গুলো বড়দের বোঝানো কষ্ট। এবার তা তারা কবিতা ও গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছে এবং তাদের লেখা গুলো দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে। সেই সাথে মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের লেখা গুলো পড়ছে। যা তাদের জন্য অনন্দের। তাছাড়া এতো বড় দেয়াল পত্রিকা উৎসবে তারা আগে কখনো সমবেত হতে পারেনি। এবার তারা দেশের সব চেয়ে বড় এ উৎসবের অংশিদার হতে পেরে গর্ব অনুভব করছে।
রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজা খানম বলেন, তার বিদ্যালয়ের ছাত্ররাই ৪৯টি দেয়াল পত্রিকা তৈরী করেছে। ওই সব পত্রিকায় মহান একুশে, স্বাধীনতা, বিজয় দিবস সহ দেশ ও জেলার নানা রকম ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কবি লিয়াকত আলী বলেন, রোমে দেয়াল পত্রিকার শুরু হয়েছিল। সে সময় কাগজের অভাব ছিল। পরবর্তীতে কাগজের আবির্ভাব হওয়ায় দেয়াল পত্রিকার প্রচলোন কমে যায়। তবে এটাকে পুনঃজীবিত করতে ইচ্ছার প্রয়োজন। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন সেই মহৎকাজটি করেছে। শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে তারা অনুপ্রাণিত করেছে। যে কারণে ছয় শতাধিক দেয়াল পত্রিকার সমারহ এখানে ঘটেছে। সেই সাথে শিশুরা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পেরেছে। যা কিনা উৎসবকে আরো বেশি রঙ্গিন করে তুলেছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, চমৎকার রচনা শৈলী, ভাষার বিশ্লেষনের মাধ্যমে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেখতে পারছে। এটি একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন। এমন আয়োজন তিনি আগে কখনো দেখেননি। তিনি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক জিনাত আরা বলেন, রাজবাড়ীর শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতে এবং তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করতে এ দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগীতা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমবারই ছয় শত দেয়াল পত্রিকার সমারহ ঘটনানো হয়েছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখা হবে।

(Visited 434 times, 1 visits today)