গোয়ালন্দে মৌসুমী খাবার তাল শাঁসের রমরমা বাণিজ্য

3

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মৌসুমী সুস্বাদু ফল তালের শাঁস বিক্রি জমে উঠেছে। ভেজাল মুক্ত দেশীয় ফল হিসেবে সাধারন মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে একাধিক তালের শাঁসের দোকান। এ ছাড়া কোন কোন বিক্রেতারা ভ্যানে করে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন মৌসুমী এ ফল। বেশীর ভাগ মানুষের পছন্দের সৌখিন খাবার হিসেবে এ ফলের চাহিদা থাকায় এ ব্যবসা করে কিছু দিনের জন্য হলেও জীবিকা নির্বাহ করেছেন এক শ্রেণির হত দরিদ্র মানুষ।

উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর কৃষ্ণপট্টি গ্রামের তালের শাঁস ব্যবসায়ী মো. ইউনুছ শেখ বলেন, এ মৌসুমে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা থাকে। আমরা কয়েক মাস আগেই বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তালগাছ ক্রয় করি পাইকারি দামে। বিক্রি করি খুচরা দামে। গাছ থেকে তাল পাড়তে ঝুকিসহ কষ্টকর হলেও অন্য ফলে চাইতে তাল শাঁস বিক্রিতে বেশি লাভ হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাল শাঁস ব্যবসায়ীরা প্রতিজন ৪শ থেকে ৫শ তাল কেটে শাঁস বিক্রি করতে পারে। মানবদেহের জন্য উপকারী ফল হওয়ায় নির্বিঘেœ ধনী, দরিদ্র নারী-পুরুষ লোভনীয় এ শাঁস দেখেই কেনেন। অপরদিকে বাজারের সব ফলে ফরমালিনের ছড়া-ছড়ি থাকলেও ফরমালিনমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর এ ফলের চাহিদা রয়েছে।

উপজেলা চর বালিয়া কান্দি গ্রামের শাঁস বিক্রেতা মো. মোসলেম শেখ জানান, প্রতিবছর মধুমাসের তিনি বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তালের শাঁস বিক্রি করে থাকেন। তিনি গাছে উঠতে না পারায় অন্যের কাছ থেকে পাইকারী দরে কিনে এনে খুচরা কেটে বিক্রি করেন। তাতে তার যে রোজগার হয় তাতে এ কয়েক মাস ভালো ভাবেই চলে যায়।

তালে শাঁস ক্রেতা গোয়ালন্দ বাজারের ব্যবসায়ী মো. কুদ্দুস উল আলম বলেন, মৌসুমী এ ফলটি শিশুসহ সবার কাছে প্রিয় হওয়ায় এ বছর দামটা একটু বেশি। তারপরও অন্য ফলের তুলনায় অনেক কম এবং নিরাপদ। কারণ তালের শাঁসে কোন ধরনের ক্যমিক্যাল দেয়া সম্ভব নয়।

(Visited 13 times, 1 visits today)