হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে বিস্তৃন মাঠ

মোঃ মাহফুজুর রহমান :

DS=532

ঋতুর পালা বদলে শীতের আগমনী বার্তায় মাঠে মাঠে এখন শোখা পাচ্ছে সৌন্দর্য্য মন্ডিত সরিষা ফুল। গ্রামের দিগন্ত মাঠ সেজেছে হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহে। সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধ সকলকেই আকৃষ্ট করে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার সরিষার আবাদ হয়েছে চোখে পড়ার মতো। উপজেলার পদ্মানদীর চরাঞ্চলসহ ফসলী জমিতে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে সরিষা গাছগুলো। কিছুদিনের মধ্যে উঠে আসবে চাষিদের প্রতিক্ষিত ফসল সরিষা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকার ফলে এ বছর গোয়ালন্দতে সরিষার বাম্পার ফলেন হবে বলে এমনটাই আশা করছে কৃষকেরা।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, এবার সাড়ে ৫ শ হেক্টর স্থানীয় এবং ২ শ হেক্টর উফশী জাত মিলিয়ে মোট সাড়ে ৭ শ’ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। কৃষকেরা জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ভালো ফসল হবে এমনটাই আশা করছে তারা। তবে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোনো ভুমিকা নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের। তাদের মতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যদি কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ যথারীতি দেখা শোনা করে তাহলে অনেক অনাবাদি জমিতে আরও বেশি সবজিসহ সরিষা চাষ করা সম্ভব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা এবং সরিষার ন্যায্যমূল্য পেলে এ অঞ্চেলের কৃষকেরা ধান চাষের পাশাপাশি সরিষা চাষে আরও বেশি এগিয়ে আসবে। সরিষা শাক এখনও খুবই জনপ্রিয়। তাই এ অঞ্চলের অনেক কৃষক শুধু শাক বিক্রিা করতেই সরিষা চাষ করেন। অল্প সময়ে বেশি লাভ হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা। তারা বলেন, স্বপ্ল সময়ের মধ্যে হাতে টাকা পাওয়া যায় তাই শাক বিক্রি করে দেই।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রতাপ মন্ডল জানান, অনুকুল আবহাওয়া থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি। শুধূ বীজ উৎপাদনের জন্য প্রচলিত জাতগুলো থেকেও উন্নত জাতের বেশ কিছু প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। এর গাছের আকার অত্যন্ত ছোট, স্বপ্ল সময়ে অধিক উৎপাদন এবং তেল উৎপাদন গড়ে ২০/২৫ শতাংশ বেশি হওয়ায় এ জাতটি আবাদ করলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন। তিনি জানান, জমিতে বিঘায় ৪মণ থেকে কোনো কোনো ৫ মণ পাওয়া যাবে। এবার দাম ভালো পেলে আগামীতে কৃষকেরা সরিষা চাষে।

(Visited 54 times, 1 visits today)