নদী ভাঙ্গন ঠেকানোর দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল, মানবববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

1পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের ফলে ঈদ আনন্দ ম্লান হতে চলেছে রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের লালগোলা থেকে উড়াকান্দা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দাদের। ভাঙ্গন প্রতিরোধের দাবীতে গতকাল রবিবার দুপুরে ওই এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজবাড়ী জেলা শহরের আসেন এবং তারা জেলা শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সাথে কালেক্টরেট চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করাসহ জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেছেন। এদিকে, জেলা সদরের দাদশী ইউনিয়নের বলতা ব্রীজ এলাকায় স্থায়ী নদী তীর ভাঙ্গন প্রতিরোধ কাজের ৫০ মিটার এলাকা ধ্বসে গেছে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছে।
মাননববন্ধন কর্মসূচী চলাকালে জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী শামসুদ্দিন, দাদশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা কেএ সবুর শাহিন, আবু মুসা বিশ্বাস, আলমগীর হোসেন, শহিদ মোল্লা হাবিবুর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
ঈদ ম্লান হবার কথা জানিয়ে বক্তারা জরুরী ভিত্তি রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের লালগোলা থেকে উড়াকান্দা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকার ১৫ টি পয়েন্টে হওয়া ভাঙ্গন রোধের দাবী জানান। পরে তাদের দাবী সম্বলিত একটি স্বারকলিপি জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের হাতে তুলে দেন।
এদিকে, গতকাল দুপুরে জেলা সদরের দাদশী ইউনিয়নের বলতা ব্রীজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২০১১-১২ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানের সিসি ব্লক দ্বারা স্থায়ী নদী তীর ভাঙ্গন প্রতিরোধ কাজের প্রায় ৫০ মিটার এলাকা ধ্বসে গেছে। এতে করে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা সদরের দাদশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, নদীতে তীব্র ¯্রােতের কারণে ধ্বসে যাওয়া ওই স্থান ভেঙ্গে যেতে পারে। সেই সাথে মাত্র দেড় শত মিটার দূরে থাকা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পরে যেতে পারে। তিনি দ্রুত সেখানে নতুন করে সিসি ব্লক ফেলার অনুরোধ জানান।
এলাকাবাসীরা জানান, ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পর গত কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কামরুন্নাহার চৌধুরী লাভলী ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে কাজের কাজ তারা কিছুই করেননি। তারা শুধুমাত্র কিছু নেতা-কর্মী ও মিডিয়ার কর্মীদের নিয়ে সেখানে গেছেন এবং ভাঙ্গন প্রতিরোধের আস্বাস দিয়েছেন।
জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী শামসুদ্দিন বলেন, গত তিন সপ্তাহে নদীর প্রায় কয়েকশত ফুট এলাকা ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গনের কারণে নদী এখন শহর রক্ষা বাঁঁধের ৩০/৪০ মিটার দূরে রয়েছে। একই ভাবে একটু ভাটিতে পশ্চিম উড়াকান্দা দেওয়ান বাড়ি এলাকায় দু’শ মিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এখানে পশ্চিম উড়াকান্দা গোরস্থান ও উড়াকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় যে কোন সময় নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লালগোলা এলাকার নদী ভাঙন কবলিত ঝুঁকিপূর্ণ একশ’ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজের জন্য ২০১১-২০১২ অর্থ বছর ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। কার্যাদেশও দেয়া হয়। কিন্তু সরকার দলীয় ঠিকাদার সে কাজ না করায় টাকা ফেরত যায়। পরবর্তিতে ওই বরাদ্দকৃত অর্থের কোন খোঁজ জানা যায়নি। দু’বছর নদীভাঙন না থাকায় এরাকাবাসী আশংকামুক্ত ছিলো। কিন্তু এবার নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় এ এলাকার মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। এই এলাকার হাটবাজার, বাড়িঘর, স্কুল-মাদ্রাসা ও ফসলী জমি নদীতে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, গত ৩ জুলাই থেকে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক মিটার এলাকা নদী গর্ভে ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে নদী থেকে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ মাত্র ৫০ মিটার দুরে রয়েছে। যে কারণে দ্রুত ভাঙ্গন রক্ষার জন্য বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ী জেলা সদরের গোদারবাজার ঘাট থেকে অন্তর মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলো মিটার এলাকায় স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধ মূলক কাজ করা হয়েছে। আরো ৫ কিলো মিটার কাজ করা সম্ভব হলে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে শহর রক্ষা বাঁধ। যে কারণে কয়েক দিন পূর্বে ১ শত ৭৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রনালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হলেই কাজটির বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, জেলা সদরের দাদশী ইউনিয়নের বলতা ব্রীজ এলাকায় নদী তীর স্থায়ী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কাজের ধ্বসে স্থানটির ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইতোমধ্যেই নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার ৩৬ টি পরিবারকে আর্থিক সহযোগীতা করা হয়েছে এবং পশ্চিম উড়াকান্দা গোরস্থানের জন্য ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। সেই সাথে স্থানীয় ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য পরি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ১ শত ৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদের চেষ্টা করা হচ্ছে।

(Visited 48 times, 1 visits today)