আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালালে গণ-আদালতে বিচারের মাধ্যমে আপনাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে

72

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি বলেছেন, ঈদের পর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। গণ-আন্দোলন আর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এক নয়। গণতন্ত্রের নামে আপনারা যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছেন বাংলার মানুষ তা গ্রহণ করবে না। প্রয়োজনে গণ-আদালতে বিচারের মাধ্যমে আপনাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে খুনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে জিয়াউর রহমান। সেনাবাহিনীর ক্যুপ্রতিরোধের নামে কর্ণেল তাহেরসহ শত শত সেনা অফিসারকে হত্যা করেছে। বেগম জিয়ার শাসনামলে শ্রমিক কৃষকসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ক্ষমতার বাইরে এসেও জামাতের সাথে হাতমিলিয়ে ৫৫ জন চালক, ১৬ জন পুলিশ সদস্য ও ১৯ জন যাত্রীকে পুড়িয়ে মেরেছে। বাংলার জনগণ ৫ই জানুয়ারীর নিবাচণের মাধ্যমে তাদের জবাব দিয়েছে।

শুক্রবার দৌলতদিয়া ঘাটে রজনীগন্ধা, শাপলা শালুক ও চন্দ্রমল্লিকা নামে ৩টি ইউটিলিটি ফেরী উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আজ কথায় কথায় বলেন আজ খুনের রাজনীতি কায়েম হয়েছে। অথচ তাঁর স্বামী বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে খুনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। হত্যার মধ্যদিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন হত্যার মধ্যদিয়েই তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়েছে। ১৭টি সেনাবাহিনীর ক্রু প্রতিরোধের নামে শত শত সেনা কর্মকর্তা ও জোয়ানদেরকে হত্যা করেছেন জিয়াউর রহমান। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যিনি তার একটি পা উৎসর্গ করেছিলেন সেই মহান মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার কর্ণেল তাহেরকে তিনি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছেন। যেটাকে আদালত বলেছে ঠান্ডা মাথায় খুন। সুতরাং জিয়া আদালত কর্তৃক স্বীকৃত খুনি।

১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে এই পবিত্র রমজান মাসে বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত ১৮ শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছিলো। বেগম জিয়া আপনার নিশ্চয় মনে আছে ওই সময় আনছার ব্যটেলিয়ান ক্যাম্পে বোম্ববিং করে কয়েক শ আনছার সদস্যকে হত্যা করে সেখানের তাদের মাটি চাপা দেয়া হয়েছিল। আপনার আমলে যখন সার নিয়ে লুটপাট চলছিলো সে সময় সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের উপর গুলি চালিয়ে ১৭ কৃষককে হত্যা করেছিলেন।

আবার যখন ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন প্রথম দুই বছরে সরকারী হিসেবে বিরোধী মতের ৬হাজার ৭শ ৬৯ জন মানুষকে আপনারা হত্যা করেছিলেন। যা বেসরকারী হিসেবে অনেক বেশী। ২০০৪ সালে কানসাটে ২০জন মানুষকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছিলেন। শুধু ক্ষমতায় থেকে হত্যাযজ্ঞ আপনি চালান নি। ২০১৩ সালে জামাত-শিবিরের সাথে আতাত করে যে ভাবে এদেশের পুলিশ, ড্রাইভার, রিক্সাচালক, মুক্তিযোদ্ধাসহ ব্যাংকার রাসেল মাহমুদের মত শত শত নিরিহ মানুষকে পুড়িয়ে, পিটিয়ে, কুপিয়ে মেড়েছেন তা এদেশের মানুষ কখনো ভুলে যাবে না। সুতরাং খুন আপনারা করছেন। আর দায় দায়িত্ব আমাদের সরকারকে দিলে হবে না।

তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আন্দোলনের ভয় দেখাবেন না কারণ সন্ত্রাস আর আন্দোলন এক নয়। সন্ত্রাস নাশকতা করে আন্দোলন হয় না বরং জনবিচ্ছিন্ন হতে হয়।

বর্তমান সরকাররের নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাফল্য সম্পের্কে তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার আগে এ দেশে মোট ১৫টি ফেরি ছিলো। এরপর বাংলাদেশের প্রথম ৩৮ বছরে ২০টি ফেরি ক্রয় করেছে বিভিন্ন সরকার। বিষ্ময়কর ব্যাপার হলো বেগম খালেদা জিয়া ১০ বছার ক্ষমতায় ছিলেন একটি ফেরিও ক্রয় করেননি। আমরা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে ১৭টি ফেরি কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে এবং তারমধ্যে ১৪টি ফেরি ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। বাকি ৩টি এ বছরের মধ্যেই আমাদের হাতে এসে যাবে।

তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আর কোন ঈদে সাধারন মানুষকে ঘাটে আটকে থেকে এখানেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে না। ঈদে নির্বিঘেœ ও নিরাপদে নদী পারাপারের জন্য সব রকম প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য কামরুন্নাহার চৌধুরী লাভলী, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন-সচিব মো. সোহরাব হোসেন শেখ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুকুর মাহমুদ, সহকারী যুগ্ন-সচিব ভোলা নাথ দে, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম খান, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক পিপিএম, বিআইডব্লিউটিসি’র পরিচালক জ্ঞান রঞ্জন শীল, উপজেলা আওয়ামীলীগেরর সভাপতি হাসান ইমাম চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম নুরুল ইসলাম, ফেরী নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মন্ডল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, খান ব্রাদার্স এন্ড শিপ ইয়ার্ড ২১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ফেরী ৩টি নির্মান করেছে। প্রতিটি ফেরী ৮-১০টি গাড়ি বহন করতে সক্ষম হবে।

(Visited 32 times, 1 visits today)