পাংশার ভাইস চেয়ারম্যান হত্যা মামলার আরো এক আসামী গ্রেপ্তার

মাসুদ রেজা শিশির :

0led-1

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারমান ও জেলা কৃষকলীগের সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি নাদের হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ আনসার মুন্সি (৫০) নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। আনসার মুন্সি জেলার পাংশা উপজেলার বাহাদুরপর ইউনিয়নের কাঁচারীপাড়া গ্রামের মৃত বারেক মুন্সির ছেলে।
পাংশা থানার ওসি আবুল বাশার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে জেলার বাহাদুরপুর চরআফড়ার পদ্মা নদীর তীর থেকে আনসার মুন্সিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ভাইস চেয়ারম্যান মুন্সি নাদের হোসেন হত্যা মামলার সন্দেহ ভাজন আসামী। তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আনসার মুন্সির বাড়ীতে গত ২২ নভেম্বর সকালে ভাইস চেয়ারম্যানকে হত্যার পূর্বে হত্যাকারীরা অবস্থান করে এবং হত্যার পর তারা আনসারের সহযোগীতায় নিবিঘের্œ পালিয়ে যায়। আনসারকে গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। এ মামলায় থানা পুলিশ এজাহার নামীয় ৩ ও সন্দেহভাজন ২জন মোট ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে।
তিনি আরো জানান, মুন্সি নাদের হোসেন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই খালেক মুন্সি বাদী হয়ে গত ২২ নভেম্বর রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় হাবাসপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান সেখের ছেলে মঞ্জু সেখকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। একই সাথে ১০ জনকে চিহ্নিত করার ৫/৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুন্সি নাদেরের গ্রামের বাড়ী পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের কাঁচারীপাড়া গ্রামে। তিনি প্রতিদিনের ন্যয় কাঁচারীপাড়া বাজার থেকে চা খেয়ে তিনি তার মোটর সাইকেল চালক আবুল কাশেমকে নিয়ে গত ২২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে পাংশা উপজেলা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার মোটর সাইকেলটি ওই বাজার থেকে আধা কিলো মিটার দুরে পৌছতেই একদল দূর্বৃত্ত গতিরোধ করে। দূর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ করে গুলি বর্ষণ করে। তার মুখ, বুক ও পিঠে ৩টি গুলি লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরেন। সে সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। প্রথমে তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হাসপাতালেই চিকিৎসাধিন অবস্থায় ওই দিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

(Visited 19 times, 1 visits today)