মুন্সি নাদের হত্যার ঘটনায় ইউসুফ ওরফে জটা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

Rajbari- (6)- 21.11.2014

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারমান ও জেলা কৃষকলীগের সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি নাদের হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ইউসুফ মন্ডল ওরফে জটা (৪৮) কে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। জটা পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের কাঁচারীপাড়া গ্রামের খাবির মন্ডলের ছেলে।
পাংশা থানার ওসি আবুল বাশার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউসুফ মন্ডল ওরফে জটাকে কাঁচারীপাড়া এলাকা থেকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। জটা মুন্সি নাদের হোসেন হত্যা মামলার সন্দেহ জনক আসামী। এর আগে গত সোমবার রাতে ১০ নং আসামী ফারুক হোসেন (৩০) নামে আরো এক আসামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ফারুক পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনন্দনপুর গ্রামের মহন বিশ্বাসের ছেলে। একই মামলার গত রবিবার রাতে ৩ নং আসামী আনিসুর রহমান প্রামাণিক (২৮) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের এলাকার কয়েক সহ¯্রাধিক বাসিন্দা এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে পাংশা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। একই সাথে হয়েছে ভাংচুর।
পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল মামুন খান জানান, ইউনিয়নের কাঁচারীপাড়া থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি পাংশা উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এক পথসভায় মিলিত হয়। পথ সভায় পাংশা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আলী বিশ্বাস, হাবাসপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মন্ডল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চাঁদ আলী খান, শ্রমিক নেতা ইদ্রিস আলী বাবু, ওয়াকার্স পার্টির নেতা কাইয়ুম খান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
জানাগেছে, মুন্সি নাদের হোসেন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই খালেক মুন্সি বাদী হয়ে গত ২২ নভেম্বর রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় হাবাসপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান সেখের ছেলে মঞ্জু সেখকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। একই সাথে ১০ জনকে চিহ্নিত করার ৫/৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুন্সি নাদেরের গ্রামের বাড়ী পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের কাঁচারীপাড়া গ্রামে। তিনি প্রতিদিনের ন্যয় কাঁচারীপাড়া বাজার থেকে চা খেয়ে তিনি তার মোটর সাইকেল চালক আবুল কাশেমকে নিয়ে গত ২২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে পাংশা উপজেলা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার মোটর সাইকেলটি ওই বাজার থেকে আধা কিলো মিটার দুরে পৌছতেই একদল দূর্বৃত্ত গতিরোধ করে। দূর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ করে গুলি বর্ষণ করে। তার মুখ, বুক ও পিঠে ৩টি গুলি লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরেন। সে সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। প্রথমে তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হাসপাতালেই চিকিৎসাধিন অবস্থায় ওই দিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

(Visited 43 times, 1 visits today)