পাংশার ভাইস চেয়ারম্যান হত্যা মামলার এক আসামী গ্রেফতার, পুলিশ সুপারের পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ivtitled-1

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারমান ও জেলা কৃষকলীগের সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি নাদের হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গত রবিবার রাতে আওয়ামীলীগের নেতার ছেলেকে প্রধান আসামী করে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ দিকে রাতেই পাংশা থানার পুলিশ সদস্যরা ওই মামলার ৩ নং এজাহার ভুক্ত আসামী আনিস প্রমাণিক (২৮) কে খড়ের গাদার নিচে পালিয়ে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে। আনিস জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের কাঁচারীপাড়া গ্রামের কাদের প্রমানিকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে গত সোমবার দুপুরে আদালতে সোর্পদ করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পাংশা থানার ওসি আবুল বাশার জানান, মুন্সি নাদের হোসেনের বড় ভাই খালেক মুন্সি বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় হাবাসপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান সেখের ছেলে মঞ্জু সেখকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। একই সাথে ১০ জনকে চিহ্নিত করার ৫/৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদসহ জেলা পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা নিহত মুন্সি নাদের হোসেনের বাড়ী পরিদর্শন করেছেন। এ সময় নিহত নাদের মুন্সী’র স্ত্রী ফিরোজা আক্তার, ছেলে মাসুদুর রহমান টুটুল মুন্সী ও মোস্তফা মাহমুদ হেনা মুন্সী, পুত্রবধু নিলুফা ইয়াসমীন নিলু, বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেক মুন্সী, ভাতিজা নুরুন্নবী মুন্সী ও প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক রাজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার তাদেরকে, এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার পূর্বক শাস্তি নিশ্চিত করারও আশ্বাসও প্রদান করেন।
এসআই নিজাম উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রবিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ওই মামলার ৩ নং এজাহার ভুক্ত আসামী আনিস প্রমানিকের বাড়ীতে পাংশা থানার ওসি’র নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আনিস নিজবাড়ীর অপর একটি ঘরে আতœগোপন করে। তাকে সেই ঘরের খাটের নিচে থাকা খড়ের মধ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই হত্যাকান্ড সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য প্রদান করেছে। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল সোমবার দুপুরে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুন্সি নাদেরের গ্রামের বাড়ী পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের কাঁচারীপাড়া গ্রামে। তিনি প্রতিদিনের ন্যয় কাঁচারীপাড়া বাজার থেকে চা খেয়ে তিনি তার মোটর সাইকেল চালক আবুল কাশেমকে নিয়ে গত ২২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে পাংশা উপজেলা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার মোটর সাইকেলটি ওই বাজার থেকে আধা কিলো মিটার দুরে পৌছতেই একদল দূর্বৃত্ত গতিরোধ করে। দূর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ করে গুলি বর্ষণ করে। তার মুখ, বুক ও পিঠে ৩টি গুলি লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরেন। সে সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। প্রথমে তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হাসপাতালেই চিকিৎসাধিন অবস্থায় ওই দিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

(Visited 17 times, 1 visits today)