বাণিবহে লুট করা হলো কৃষকের ধান

আল মামুন আরজু :

76itled-1

প্রায় দেড় একর জমির ধান কেটে রোদে শুকাতে রেখেছিল কাঁচামাল ব্যবসায়ী কৃষক আক্কাস সেখ। তবে ওই জমির দাবীদারের পক্ষে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে সে ধান জোর পূর্বক লুট করে নিয়ে গিয়েছেন এক আওয়ামীলীগ নেতা ও তার সহযোগীরা। তবে প্রভাবশালী ওই আওয়ামীলীগ নেতা লতিফ চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের ভয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে যেতেও সাহস পাচ্ছেন না ওই কৃষক। যদিও ধান লুটের ওই ঘটনা জায়েজ করতে আয়োজন করা হয় গ্রাম্য সালিশের। যে সালিশের বিষয়টি এলাকাবাসীকে মাইকিং করে অবহিতও করা হয়।
জানাগেছে, রাজবাড়ী জেলা সদরের বাণিবহ ইউনিয়নের সৈয়দ পাঁচুরিয়া মৌজায় ক্রয়সুত্রে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এক একর ২৩ শতাংশ জমি ভোগ দখল ও চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন একই গ্রামের ওমেদ আলী সেখের ছেলে ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী কৃষক আক্কাস সেখ। সাম্প্রতিক সময়ে ওই জমির দাবী করেন, ফরিদপুরের কানাইপুর গ্রামের জনৈক বিশ্বাজিৎ সাহা ও তার ভগ্নিপতি জেলা সদরের বাণিবহ গ্রামের নিরঞ্জন চৌধুরী। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাইকোর্টে মামলাও চলছে।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী কৃষক আক্কাস সেখ বলেন, ওই জমিতে এবার তিনি ধান রোপন করে। গত ২০ নভেম্বর তিনি রোপিত পাকা ধান কাটেন এবং সরল বিশ্বাসে তা শুকাতে ওই জমিতেই রেখে আসেন। গত ২৩ নভেম্বর ভোরে জেলা সদরের বাণিবহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়া এবং একই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান দারোগ আলীর নেতৃত্বে ৬০/৭০ জন লোক লাঠিশোঠা নিয়ে তার ওই জমিতে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক জমিতে কেটে রাখা ধান লুট করে নিয়ে স্থানীয় কুমারেশের ধানের চাতালে রাখে এবং তা পরবর্তীতে মাড়াই করে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। তিনি আরো বলেন, ধান লুটের বিষয়টি তারা জায়েজ করতে গত শনিবার সকালে বাণিবহ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে। যে সালিশের বিষয়টি মাইকিং করে এলাকায় প্রচার করা হয়। তবে তিনি ওই পাতানো সালিশে জাননি। কারণ হিসেবে বলেছেন, হাইকোর্টে জমির কাগজপত্র জমা রয়েছে। ওই কাগজপত্র তুলে এনে তার পর তিনি সালিশদারদের ডাকে সারা দেবেন। তিনি বলেন, সালিশদাররা অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ভয়ে গতকাল রবিবার বিকাল পর্যন্তও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিষয়টি অবগত করেননি।
ওই জমি থেকে ধান নিয়ে আসার কথা শিকার করে বাণিবহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, আক্কাস সেখ জোর করে ওই জমি ভোগ দখল করে রেখেছে। যে কারণে মামলা মামলার গতিতে চললেও স্থানীয় ভাবে বিষয়টির সুরাহা করতেই ধান এনে মজুদ করে রাখা হয়েছে। তা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া হয়নি। তিনি আরো জানান, বিষয়টির সুরাহার জন্য মাইকিং করে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হলেও আক্কাস সেখ আসেননি।
বানিবহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কোন পক্ষই তার কাছে আসেনি। তারা আসলে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

(Visited 16 times, 1 visits today)