৪৯ ইটভাটায় হাজার হাজার মণ কাঠ পুড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

64led-1

হাইকোর্টের রুল ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ উপেক্ষা করে রাজবাড়ীতে থাকা পুরনো পদ্ধতির ৪৯টি ইটভাটায় তাজা গাছের গুঁড়ি ও কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বারবার চিঠি দিলেও ভাটা মালিকরা তা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

রাজবাড়ী জেলা পরিদর্শনে আসা পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সাঈদ আনোয়ার কাঠ পোড়ানোর দৃশ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘সরকার সব সনাতন ভাটাকে আধুনিক প্রযুক্তির (জিগজ্যাগ) ভাটায় রূপান্তরের জন্য দুই বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করে। ওই সময়সীমা চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে সরকার ইট প্রস্তত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ প্রবর্তন করেছে এবং চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। সনাতন ভাটা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। নতুন আইন কার্যকরের জন্য গত ১০ আগস্ট রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ইটভাটা মালিকদের অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাটা মালিকদের জানানো হয়েছে, ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ এবং নতুন আইনে কাঠ পোড়ানোর অপরাধে অনধিক তিন বছরের কারাদন্ড, তিন লাখ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে।’

তিনি জানান, রাজবাড়ীতে থাকা সনাতন পদ্ধতির ৪৯টি ইটভাটা মালিক ইট প্রস্তত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩-এর ৬ ধারা লঙ্ঘন করে কাঠ পোড়াচ্ছেন, যা একই আইনের ১৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত ৩ নভেম্বর রাজবাড়ী জেলায় থাকা ওই সব সনাতন পদ্ধতির ইটভাটা মালিককে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যক্রম বন্ধের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার পরও ভাটা মালিকরা অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, ‘গত ১০ নভেম্বর, ১৫ নভেম্বর এবং গত বুধবার রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলা পরিদর্শন করেছি। একই সঙ্গে চিঠি দিয়েছি। ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানোর দৃশ্য ধারণ করেছি। তথ্য প্রমাণ নিয়ে তা পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরিদপুর কার্যালয়ে এবং ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। চলছে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব।’

রাজবাড়ী জেলা জিগজ্যাগ হাওয়াই ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির পরিবেশসম্মত ইটভাটা চালু ও পুরনো পদ্ধতির ভাটা বন্ধকল্পে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনে রুল জারি হয়েছে। পুরনো পদ্ধতির ইটভাটা বন্ধকল্পে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের ডিসিকে আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, সচিব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সচিব পরিবেশ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তরকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইটভাটা প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) ২০১৩ আইনের পরিপন্থী রাজবাড়ীর ৪৯টি এবং ফরিদপুরের ১৫টি পুরনো পদ্ধতির ইটভাটার বিরুদ্ধে মো. শরিফুল ইসলাম জনস্বার্থে এই রিট পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান কেন রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলায় আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা চালু করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ৫ নভেম্বর এ রুল জারি করেন।’

(Visited 28 times, 1 visits today)