২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ !

এজাজ আহম্মেদ :

আলাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসারের বিরুদ্ধে ২৬ লাখ টাকা আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
আলাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রুস্তম আলী শেখ জানান, বিদ্যালয়ের সামনে দুই তলাবিশিষ্ট মাকের্টের অনিয়ম করে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। দোকান বরাদ্দ দিয়ে তিনি পনের লাখ টাকা আতœসাত করেন। এছাড়াও নিজের ইচ্ছে মতো বিভিন্ন মালামাল কিনে টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়াও তিনি পরীক্ষাসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে নিয়মনীতি ভঙ্গ করে ভূয়া বিল ভাউচার তৈরীর মাধ্যমে প্রায় এগার লাখ টাকা আতœসাত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বিরাজ করছে। এতে করে বিদ্যালয়ের পড়ালেখা মান ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে ৯০৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ষোলজন শিক্ষক ও সাতজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। ১৯৬৫ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টিতে একটি বড় খেলার মাঠসহ পাঠদানের জন্য ভবন রয়েছে তিনটি। বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার পাশে দুটি মার্কেট। মার্কেটের পুরাতন আধাপাকা মার্কেটে দশটি ও নতুন দ্বিতল মার্কেটে ত্রিশটি দোকান রয়েছে।
মার্কেট নির্মাণ কমিটির সদস্য আলীমুদ্দিন শেখ জানান, মার্কেট নির্মানের আগে সিদ্ধান্ত ছিলো দোকান বরাদ্দের আয় ব্যাংক হিসেবে জমা হবে। সেখান থেকে ভাউচারের মাধ্যমে টাকা তুলে নির্মাণ খরচ চালানো হবে। প্রথম দিকে নিয়ম মাফিক (প্রায় নয় লাখ টাকা) আয়-ব্যয় চলছিলো। এরপর প্রধান শিক্ষক সবাইকে এড়িয়ে নিজেই টাকা জমা নেন এবং খরচ করেন। বিষয়টি আমি প্রতিবাদ করেও সমাধান করতে না পেরে নিজেকে কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে নেই।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শওকত হোসেন জানান, আমি চলতি বছর জানুয়ারী মাসে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। অধিকাংশ কাজ আগেই শেষ হয়ে গিয়ে ছিলো। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কেউ আমাকে জানায় নাই।
প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার জানান, কমিটির কিছু লোক মিথ্যা অভিযোগ এনে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে। নির্মাণ করতে কত টাকা ব্যয় এবং দোকান বরাদ্দ দিয়ে কত টাকা আয় করেছেন প্রশ্ন করলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম খান জানান, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

(Visited 22 times, 1 visits today)