স্বামীর বাড়ীতে এসে লাশ হলো আসমা, ৫০ হাজার টাকায় রফা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

1

রাজধানী ঢাকার কৃষাণ হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করতো আসমা খাতুন (২০)। অনেক স্বপ্ন নিয়ে তিনি নিজ এলাকার ছেলে মাসুদ সেখের সাথে ঘর বাঁধেন। তবে সে ঘরের স্বপ্ন এখন তার অধরা। মাত্র চার দিন পূর্বে স্বামীর বাড়ী এসে দেখেন তার সাথে মাসুদ করেছে প্রতারনা। রয়েছে মাসুদের ৩ সন্তান ও দ্বিতীয় স্ত্রী। ফলে হয় মাসুদের সাথে তার ঝগড়া। এরই মাঝে গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ীর পাশে থাকা বাঁশ ঝাড়ের মধ্যে পাওয়া যায় তার লাশ। তবে ওই লাশ পাওয়ার পরই উভয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হয় সমঝোতা। আর ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে আসমার লাশের দাম ধরা হয় ৫০ হাজার টাকা। তবে ঘটনার পর পরই আতœগোপনে চলে গেছে মাসুদ।
জানাগেছে, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের মেজেক সেখের ছেলে মাসুদ সেখ প্রায় ১৫ বছর পূর্বে সাবানা খাতুন নামক এক মহিলাকে বিয়ে করে। বিয়ের দেড় বছর পর একটি ছেলে সন্তান হয়। এর কিছু দিন পর সে সাবানাকে তালাক দেয়। এর পর বিয়ে করে জাহানারা বেগম নামক অপর এক মহিলাকে। বর্তমানে জাহানারার এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাসুদ রাজধানী ঢাকায় যায় এবং সেখানে গার্মেন্টে কাজ শুরু করেন। কাজ শুরুর পর পরই তার পরিচয় হয় রাজধানী ঢাকার কৃষাণ হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত আসমা খাতুনের সাথে। আসমা মদাপুর ইউনিয়নের বিল মানুষ মারি গ্রামের আজাহার আলী মন্ডলের মেয়ে। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে মাসুদ বিয়ে করে আসমাকে। মাত্র চার দিন পূর্বে মাসুদ তাকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসে। তবে এ বাড়ীতে আসার পর পরই আসমার কাছে মাসুদের প্রতারনার বিষয়টি পরিস্কার হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ীর পাশের বাঁশ বাগানের মধ্যে পাওয়া যায় তার লাশ। তবে লাশ পাওয়ার পর পরই আসমার পরিবারের সদস্যদের এ বাড়ীতে ডেকে আনা হয় এবং উভয় পরিবারের সদস্যরা সমঝোতায় মিলিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ আলী মীর জানান, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে হওয়া ওই সমঝতায় আসমার লাশের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫০ হাজার টাকা। তবে ওই সমঝতা হবার পরই কালুখালী থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। একই সাথে মাসুদ চলে যায় আতœগোপনে।
সমঝোতার কথা স্বীকার করে আসমার ভাই শিহাব মন্ডল জানান, তারা এক ভাই, দুই বোন। আসমা সকলের ছোট। তার ৫ বছর পূর্বে বিয়ে হয়েছিল। তবে সে স্বামীর সাথে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। যে কারণে ৩ বছর পূর্বে সে রাজধানী ঢাকায় চলে যায় এবং সে ঢাকার কৃষাণ হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ শুরু করে। তবে মাসুদের সাথে বিয়ে হবার বিষয়টি তাদের জানা ছিলনা। চার দিন পূর্বে মাসুদের বাড়ীতে আসার পর তারা জানতে পারেন আসমার এখানে বিয়ে হয়েছে। তিনি দাবী করেন, আসমা আতœহত্যা করেছে। ফলে তাদের লাশের প্রতি আর দাবী নেই। যে কারণে তারা কোন মামলাও করবেন না।
কালুখালী থানার সেকেন্ড অফিসার ওয়াদুদ আলম জানান, আসমার গলায় দাগ ও থুতমিতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যে কারণে ওই দিন বিকালে লাশটি উদ্ধার করে তা ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে মাসদু আতœগোপনে থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

(Visited 21 times, 1 visits today)