বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পার্টনার গ্রেপ্তার, পালিয়েছে স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

4=itled-1

জেলা শহরের শ্রীপুর গ্রামে আলী আহম্মদ মিয়া (৭৮) নামক এক বিত্তশালী ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গত রবিবার রাতে রাজবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্যবসায়ীর ছেলে আব্দুর রহিম মিয়ার দায়ের করা মামলায় ওই ব্যবসায়ীর পার্টনার মোতালেব ভুইয়া (৪৫) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মামলার অপর আসামী করা হয়েছে ব্যবসায়ীর তৃতীয় স্ত্রী আকালিমা খাতুন (৪০) কে। তবে মামলা দায়ের পর পরই তিনি পালিয়েছেন বলে জানাগেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই রাজিউর রহমান বলেন, গ্রোপ্তার হওয়া মোতালেব ভুইয়ার বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার বিকালে আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তবে অপর আসামী আকলিমা খাতুন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলায় আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।
মামলার বাদীর দাবী, তার পিতার পার্টনার মোতালেব ভুইয়া নিয়মিত তাদের বাড়ীতে যাওয়া আসা করতো। তার আপন মা ও অপর এক সৎ মা মারা যাবার পর মোতালেব কৌশলে আকলিমাকে তার পিতার সাথে বিয়ে দেয়। সেই সাথে তাদের বাড়ীতে নিয়মিত যাওয়া আসার কারণে সৎ মা আকলিমার সাথে মোতালেবের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একই সাথে তার পিতার জমি বিক্রির দেড় কোটি টাকা ওই দুই জন হাতিয়ে নিতেই ভাড়া করা খুনিদের দিয়ে তারা এ হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত ৮ টার দিকে জেলা শহরের শ্রীপুর বাজার থেকে ব্যবসায়ীক পার্টনার ও জেলা সদরের আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়নপুর গ্রামের কাদের ভুইয়ার ছেলে মোতালেব ভূইয়াসহ অন্যান্যেদের সাথে চা’খেয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে এক কিলো মিটার দূরে থাকা নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হন আলী আহম্মদ মিয়া। তিনি রাজবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের পেছনের রাস্তা দিয়ে বাড়ীর কাছাকাছি পৌছতেই একটি মোটর সাইকেলে আসা ৩ জন দূর্বত্ত তার মাথা কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি দূর থেকে দেখেন একই এলাকার মোচন মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। সে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে এবং তাকে দ্রুত রাজবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ২০ মিনিট চিকিৎসা গ্রহণের পরই তিনি মারা যান। তিনি আরো জানান, তার নিহত চাচার প্রচুর জমি-জমা রয়েছে। তার কাছে সব সময় নগদ এক থেকে দেড় কোটি টাকা থাকতো। যে টাকা তিনি জমি বিকিকিনির খাতে নিয়মিত ভাবে ব্যবহার করতেন। তবে তার মধ্যে কখনো কোন অহংকার বোধ ছিল না। অনেকটা গরীবানা হালেই করতেন চলাফেরা।

(Visited 22 times, 1 visits today)