ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে পাউবো, মাটি কাটা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

Untitled-1

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং থানা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজবাড়ীর চন্দনা নদী থেকে গত এক মাস ধরে মাটি কাটা হচ্ছিল। যে মাটি ফেলা হচ্ছে নবগঠিত কালুখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে। যদিও মাটি কাটার আগে উপজেলা পরিষদ কারো অনুমতি নেয়নি। মাটি কাটার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীরে থাকা বাঁধের কাঁচা রাস্তা। গত সোমবার দেশের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক কালের কণ্ঠে “অবৈধভাবে নদীর মাটি কেটে সড়ক উন্নয়ন, কালুখালীতে হুমকির মুখে বাঁধ” শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ওই রিপোর্ট প্রকাশের পর জেলার কালুখালী ও পাংশা উপজেলা এলাকার সর্বত্র ওঠে আলোচনার ঝড়। যে কারণে গতকাল সকালেই ওই উপজেলা গুলোতে সরবরাহ করা দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকা বিক্রি হয়ে যায়। একই সাথে টনক নড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের।
গতকাল সকালে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন। গতকাল বিকালে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছির উদ্দিন মাহমুদ জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করার পূর্বেই কালের কণ্ঠ পত্রিকা পড়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেচ্ছায় মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারণে তার উপজেলা পরিষদ চত্বরে আরো মাটি পরেনি।
অপর দিকে, পাউবো পাংশার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ জানান, গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে পানিউন্নয়ন বোর্ডেও কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছিল। তারা মাটি কাটা বন্ধ করেছে। একই সাথে তাদেরকে যে সকল স্থান থেকে মাটি কাটা হয়েছে, সে সকল স্থান চিহ্নিত করাসহ মাটির পরিমান হিসাব করতে বলা হয়েছে। মাটির হিসাব চিহ্নিত করার পর ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কালুখালী থানায় মামলা দায়ের করা হবে।
স্থানীয় ভবানীপুর গ্রামের মধুসুদন দত্ত, জহির মন্ডল ও রাজিয়া বেগম বলেন, পাশের পাংশা উপজেলার প্রভাবশালী ঠিকাদার সিদ্দিক মন্ডল তাঁর লোকদের দিয়ে এ মাটি উত্তোলন করছেন। তাঁরা নদীর তীরে থাকা কাঁচা রাস্তাটি হুমকির মুখে পড়ে যাওয়ার কথা বললেও শুনছেন না ঠিকাদার। ওই রাস্তা দিয়ে তাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন। রাস্তা না থাকলে তাঁরা বিপদে পড়বেন। প্রায় এক মাস ধরে দেদার মাটি কাটা হলেও ওই ঠিকাদারকে কেউ কিছুই বলছেন না। ঘটনাস্থলে থাকা ঠিকাদারের নিযুক্ত ব্যবস্থাপক কামাল জানান, এ মাটি ঠিকাদারের নির্দেশে কাটা হচ্ছে, যা একাধিক ট্রাকে তুলে কালুখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার কালুখালী থানা পুলিশের সদস্যরা মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে তার পরদিন থেকে ফের মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এরপর আর কেউ কাজে বাধা দেয়নি।’
মেসার্স সাহাজি এন্টারপ্রাইজের মালিক সিদ্দিক মন্ডল জানান, চন্দনা নদীর খননকাজ গত বছর শেষ হয়েছে। দুটি গ্রুপে ঢাকার এমআরপিএল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে পাংশা থেকে কালুখালীর কালিবাড়ী পর্যন্ত তার প্রতিষ্ঠান কাজ করে। তবে পাঁচ কোটি টাকার ওই কাজের মধ্যে তিনি এখন পর্যন্ত তিন কোটি টাকার বিল পেয়েছেন। পাউবোর কাছে তিনি দুই কোটি টাকা বিল পান। ইতিমধ্যে তিনি উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের রাস্তা উন্নয়নের ৩০ লাখ টাকার মাটি ফেলার কাজ পান। যে কারণে নদীর মাটি কেটে এনে কালুখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেলছেন। নদীর মাটি কাটা বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি অবৈধ নয়।’

(Visited 38 times, 1 visits today)