হুমকির মুখে বাঁধ, অবৈধভাবে চন্দনা নদীর মাটি কেটে কালুখালী উপজেলা পরিষদের সড়ক উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

441

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং থানা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজবাড়ীর চন্দনা নদী থেকে এক মাস ধরে মাটি কাটা হচ্ছে। এ মাটি ফেলা হচ্ছে নবগঠিত কালুখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে। তবে মাটি কাটার আগে উপজেলা পরিষদ কারো অনুমতি নেয়নি। মাটি কাটার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীরে থাকা বাঁধের কাঁচা রাস্তা।
গত শনিবার দুপুরে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর ও খাকজানা এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, চন্দনা নদীর তীরে কালুখালী থেকে পাংশা অভিমুখী কাঁচা রাস্তার পাশ থেকে বেকু (মাটি কাটা যন্ত্র) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি কাটার কারণে ইতিমধ্যে রাস্তাটি হুমকির মুখে পড়েছে।
ভবানীপুর গ্রামের মধুসুদন দত্ত, জহির মন্ডল ও রাজিয়া বেগম বলেন, পাশের পাংশা উপজেলার প্রভাবশালী ঠিকাদার সিদ্দিক মন্ডল তাঁর লোকদের দিয়ে এ মাটি উত্তোলন করছেন। তাঁরা নদীর তীরে থাকা কাঁচা রাস্তাটি হুমকির মুখে পড়ে যাওয়ার কথা বললেও শুনছেন না ঠিকাদার। ওই রাস্তা দিয়ে তাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন। রাস্তা না থাকলে তাঁরা বিপদে পড়বেন। প্রায় এক মাস ধরে দেদার মাটি কাটা হলেও ওই ঠিকাদারকে কেউ কিছুই বলছেন না। ঘটনাস্থলে থাকা ঠিকাদারের নিযুক্ত ব্যবস্থাপক কামাল জানান, এ মাটি ঠিকাদারের নির্দেশে কাটা হচ্ছে, যা একাধিক ট্রাকে তুলে কালুখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার কালুখালী থানা পুলিশের সদস্যরা মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে তার পরদিন থেকে ফের মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এরপর আর কেউ কাজে বাধা দেয়নি।’
মেসার্স সাহাজি এন্টারপ্রাইজের মালিক সিদ্দিক মন্ডল জানান, চন্দনা নদীর খননকাজ গত বছর শেষ হয়েছে। দুটি গ্রুপে ঢাকার এমআরপিএল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে পাংশা থেকে কালুখালীর কালিবাড়ী পর্যন্ত তার প্রতিষ্ঠান কাজ করে। তবে পাঁচ কোটি টাকার ওই কাজের মধ্যে তিনি এখন পর্যন্ত তিন কোটি টাকার বিল পেয়েছেন। পাউবোর কাছে তিনি দুই কোটি টাকা বিল পান। ইতিমধ্যে তিনি উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের রাস্তা উন্নয়নের ৩০ লাখ টাকার মাটি ফেলার কাজ পান। যে কারণে নদীর মাটি কেটে এনে কালুখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেলছেন। নদীর মাটি কাটা বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি অবৈধ নয়।’
কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বলেন, ‘চন্দনা নদীর তীর থেকে মাটি কাটার ফলে পাশে থাকা কাঁচা রাস্তা হুমকির মুখে পড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গত বৃহস্পতিবার মাটি উত্তোলন কাজ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি যাদের দেখভাল করার কথা তারা তা নজরে নিচ্ছে না।’ এখনো মাটি কাটা হচ্ছে কি না তা তার জানা নেই।
পাউবো পাংশার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘চন্দনা নদীর পাংশা থেকে ফরিদপুরের মধুখালী পর্যন্ত ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি গ্রুপে খননকাজ করা হয়। ওই খননকাজ ২০১৩ সালের জুন মাসে শেষ হয়। খনন করা মাটি নদীর তীরে ফেলা হয়। তবে সেখান থেকে কাউকে মাটি নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। মেসার্স সাহাজি এন্টারপ্রাইজের মালিক নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জেনে ২০ দিন আগে তা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেই। এর পরও মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি কিছুই জানি না।’ তিনি জানান, ঢাকার এমআরপিএল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে মেসার্স সাহাজি এন্টারপ্রাইজ দুই গ্রুপের কাজ করেছে। বকেয়া বিল না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড গঠিত টাক্সফোর্স কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে ৮০ ভাগ কাজ সম্পাদনের বিল পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এ কারণে তাদের কিছু টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে বকেয়া টাকার জন্য নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
কালুখালী ইউএনও নাছির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘মেসার্স সাহাজি এন্টারপ্রাইজকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলার কাজ দেওয়া হয়েছে। তারা মাটি নদী থেকে আনছে, না অন্য কোথা থেকে আনছে, তা জানি না।’ তিনি নদী থেকে মাটি কেটে আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

(Visited 28 times, 1 visits today)