পুলিশ কনষ্টেবল কফিলের রাজবাড়ীর বাড়ীতে শুধুই কান্নার রোল

জাহাঙ্গীর হোসেন :

tled-1

“দীর্ঘ ২২ বছর চাকুরীর পর স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বহু কষ্টে তৈরী করেছিলেন তিনি ৪ রুম বিশিষ্ঠ একটি একতলা ভবন। কাথাছিল গত রবিবার সকালে বাড়ীতে ফিরে নির্মানাধিন ওই ভবনে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা এবং আজ সোমবার ওই ভবনে মিলাদ শেষে প্রথম বারের মত সেখানে রাত্রি যাপন শুরু করা। তবে তার সে স্বপ্ন এখন অধরা। নতুন ভবনে ঘুমানো হলো না তার। চলে যেতে হলো চিরকালের মাটির ঘরে। গত রবিবার সকালে মানিকগঞ্জের রহমান সিএনজি ষ্টেশনের সামনে ট্রাক চাপায় নিহত হন, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার মীর শওকত আলীর গনির গানম্যান ও এসবি’র পুলিশ কনষ্টেবল কফিল উদ্দিন কবিরাজ। কনষ্টেবল কফিলের পিতার নাম আজগর আলী কবিরাজ। তার গ্রামের বাড়ী রাজবাড়ী জেলা সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের সূর্যনগরের দয়ালনগর গ্রামে। তবে তিনি ও তার বড় ভাই যৌথভাবে বাড়ী বানিয়েছেন রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নংওয়ার্ডের সজ্জনকান্দার সারের গৌডাউন এলাকায়।
গতকাল রবিবার দুপুরে তার সজ্জনকান্দার বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের ভীড়। স্বজনরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে করছেন আহাজারী। যা দেখে প্রতিবেশিরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না।
তার বড় ও রাজবাড়ী বাজারের ভাই মুদি দোকানী আবু বক্কার সিদ্দিকী বলেন, “সকালে নাস্তা না করেই ঢাকা থেকে রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল চালিয়ে রওনা দিয়েছিলেন কফিল উদ্দিন। তিনি স্ত্রী রিনা পারভীনকে মুঠোফোনে বলেছিলেন, নাস্তা রেডি করো, আমি আসছি। তবে তিনি বাড়ীতে ফিরে এসেছেন ঠিকই তবে লাশ হয়ে।”
তিনি আরো বলেন, তারা ৬ ভাই, ৩ বোন। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা দুই ভাই ২০০০ সালে জেলা শহরের সজ্জনকান্দায় সাড়ে ৫ শতাংশ জমি কিলে বাড়ী নির্মাণ করেন। গ্রামের বাড়ীতে তার পিতা, মাতাসহ অন্যান্য ভাইরা বসবাস করেন। প্রথম দিকে টিনের বেড়া দিয়ে একটি চার চালা টিনের ঘর নির্মাণ করেন। বর্তমানে স্ত্রী ও সন্তানদেও নিয়ে কফিল ওই ঘরের বসবাস করছেন। এক বছর পূর্বে কফিল ওই ঘরের পাশে চার রুম বিশিষ্ঠ একতলা ভবনের মির্মাণ কাজ শুরু করেন। এখনো ওই ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। তবে দু’টি রুম তিনি বসবাসের উপযোগী করে তুলেছেন। যে রুমে আজ (সোমবার) মিলাদ দেয়ার কথা ছিল। অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, কফিল। কখনো কারও সাথে উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। কফিলের দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার বড় মেয়ে নিগার সুলতানা ইনা রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। অপর মেয়ে সানজিদা ইসলাম ইভা রাজবাড়ীর টাউন মক্তব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণাতে পড়াশোনা করে।
তিনি আরো বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কফিল ভবন তৈরীর কাজ শুরু করেছিলেন। তবে ওই ভবনে তার রাত্রি যাপন করা হলো না।
এদিকে, তার অসুস্থ্য পিতা আজগর সেখ ও মা রহিমা বেগম কফিলের মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙ্গে পরেছেন, করছেন শুধুই আহাজারী।
কফিলের ভাতিজা রাসেল কবিরাজ জানান, ওই দিন দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইনে প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে বিকালে লাশ রাজবাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। জেলা শহরের বড় মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শেষে রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর ১ নং গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

(Visited 30 times, 1 visits today)