নানা সমস্যায় জর্জরিত ইন্দ্রনারায়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

লিটন চক্রবর্তী :

SAMSUNG CAMERA PICTURES

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়নপুর মৌজায় অবস্থিত ইন্দ্রনারায়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা, উপস্থিতি ও পাসের হার সন্তোষজনক হলেও বিদ্যালয়টি অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষকের অপ্রতুলতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত।
ইন্দ্রনারায়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে স্থাপিত হয় আলীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আজাহার আলী সেখের দান করা ৩৩ শতাংশ জায়গার উপর। সদর উপজেলা পরিষদের অদূরে ইন্দ্রনারায়নপুর সড়কের শেষ প্রান্তে বিদ্যালয়টি এমনই সুন্দর স্থানে অবস্থিত যা সকলেরই দৃষ্টি কারে। এছাড়াও বিদ্যালয়টির আশপাশে দেড় কিলোমিটারে এলাকার মধ্যে একমাত্র বিদ্যালয় হচ্ছে এটি।
বিদ্যালয়টিতে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বর্তমানে ১৭৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৮৬ও ছাত্রী সংখ্যা ৮৭ জন। উপবৃত্তির সুবিধা ভোগির সংখ্যা ৮৮জন এর মধ্যে ছাত্র ৩৯ জন, ছাত্রী ৪৯ জন । তবে এই পরিমান শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ৪ জন। অপরদিকে, বিদ্যালয়টি ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সমাপনী পরিক্ষা চালু হলেও কোন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য্য হয়নি। শতভাগ ছেলে মেয়েই কৃতিত্বের সাথে পাস করে। ইন্দ্রনারায়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার শুরুতে ১ম ও ২য় শ্রেনী চালু হয়। ২০০৪ সালে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত চালু হয়। প্রথম তিন বছর শিক্ষকরা কেন বেতন নেয়নি। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর মাত্র ৫০০ টাকা সম্মানীর বিনিময়ে চাকুরি করেন। এরপর থেকে বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযের নির্ধারিত সম্মানী ভাতা পেতে থাকে। সর্বশেষ সরকারী করন হলে নির্ধারিত সম্মানী ভূক্ত হয় শিক্ষকেরা।
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কালীন সহকারী শিক্ষিকা রওশনয়ারা বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা কালিন সময় থেকে অনেক পরিশ্রম করে বাচ্চাদের লেখাপড়া করিয়েছি। এখন শিক্ষক শিক্ষিকারা সরকারি সকল বেতন ভাতা পেলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারনে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদী করে বিদ্যালয়ে থাকে। বিদ্যালয়টির অবস্থান ফাঁকা জায়গায় হওয়ায় প্রচন্ড গরমের মধ্যে ছেলে মেয়েদের খুবই কষ্ট হয়। তিনি আরো বলেন, সরকার আমাদের বেতন ভাতা দিয়ে কৃতার্থ করেছেন। এখন শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা মাথায় রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা দরকার।
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কালিন প্রধান শিক্ষক আলীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের কক্ষ সংখ্যা মাত্র তিনটি। শিশু শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের কোন শ্রেণী কক্ষ নেই। বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীর চাহিদা মতে অন্তত আরো দু’টি শ্রেণী কক্ষ দরকার।

(Visited 40 times, 1 visits today)