“রবিউলের পড়াশোনা কি এখন বন্ধ হয়ে যাবে !”

শহিদুল ইসলাম :

1

পিতা অসুস্থ্য, তাই পড়াশোনা বন্ধ করে সংসারের হাল ধরতে বলা হয়, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রবিউল ইসলাম (১৪) কে। তবে তার পড়াশোনা করার অদম্য ইচ্ছা একটুও কমেনি। পিতাকে দিয়ে একটি এনজিও এবং প্রতিবেশিদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে কেনে একটি ব্যাটারী চালিত রিকশা ভ্যান। সে বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে এবং বিদ্যালয় থেকে ফিরে ওই ভ্যান চালিয়ে পড়াশোনার ব্যয়সহ সাংসারিক সহযোগীতা করে আসছিল। তবে তার পড়াশোনা করার স্বপ্ন এখন ম্লান হবার উপক্রম। গত মঙ্গলবার রাতে ভ্যানে এক যাত্রি নিয়ে যাবার সময় ওই যাত্রী সুকৌশলে রাস্তার পাশে থাকা একটি পান বরজের মধ্যে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে ভ্যানটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এখন সে ভ্যান ও এনজিও’র কিস্তি দেয়া নিয়ে চরম চিন্তিত। তার পিতার নাম শরিফ আলী। বাড়ী রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের হামরাট গ্রামে। সে স্থানীয় আলহাজ্ব আমেনা খাতুন বিদ্যাপীঠের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র।
রবিউলের প্রতিবেশি বিপুল মন্ডল জানান, রবিউলরা ৩ ভাই ও ১ বোন। ভাই-বোনদের মধ্যে সে সবার বড়। তার পিতা একজন অসুস্থ্য মানুষ। যে কারণে তাকে এলাকার মানুষেরা শ্রমিক হিসেবে খুব বেশি একটা কাজে নেয় না। তাছাড়া তাদের বসতবাড়ীর ভিটা ছাড়া চাষাবাদের জন্য নেই কোন জমি। কোন রকমে টিম টিম করে চলে তাদের সংসার।
রবিউলের মা রুপসী বেগম জানান, অনেক কষ্টে তাদের চলছে সাত জনের সংসার। যে কারণে রবিউলের পড়াশোনা তারা বন্ধ করে দিয়ে মাঠের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানোর কথা চিন্তা করেন। তবে রবিউল পড়াশোনা ছাড়তে নারাজ। যে কারণে একটি এনজিও এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ব্যাটারী চালিত রিকশা ভ্যান কেনা হয়। সে বিদ্যালয়ে যাওয়া আগে এবং বিদ্যালয় থেকে ফিরে ওই ভ্যান চালিয়ে পড়াশোনার ব্যয়সহ সাংসারিক সহযোগীতা করে আসছিল।
রবিউল জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধায় জেলার কালুখালী উপজেলার বাংলাদেশ হাট মোড় থেকে অপরিচিত এক ব্যক্তি ১৫ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা মিটিয়ে তার ভ্যানে ওঠে। একই সাথে ওই ব্যক্তি তাকে স্থানীয় বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কালিবাড়ী নিয়ে আসে। সেখানে থাকা একটি পান বরজের মাঝে তাকে পিঠমোড়া করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ওই ব্যক্তি ভ্যানটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। পরে রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে তার চিৎকারে এলাকাবাসীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
রবিউলের পিতা শরিফ আলী জানান, ভ্যানটি খুজে পেতে তারা নানা জনের কাছে এবং বিভিন্ন স্থানে খোজ খবর নিচ্ছেন। তবে গত বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্তও তার কোন সন্ধ্যান পাননি। তিনি আরো বলেন, ভ্যানটি খুজে না পেলে পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে রবিউলের পড়াশোনা। আর এনজিও’র কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতে তাকে মাঠে নেমে করতে হবে শ্রমিকের কাজ।
কালুখালী থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, তিনি ভ্যান ছিনতাই হবার কোন লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে বিষয়টি মৌখিক ভাবে শুনেছেন। চেষ্টা করছেন ওই ছাত্রের ভ্যানটি উদ্ধার করে দিতে।

(Visited 26 times, 1 visits today)