নতুন সাজে মাঠে নামছে রাজবাড়ী’র বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

bnp_460085476

কেন্দ্রীয় নির্দেশে এখন দল গোছানোর কাজে হাত হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে জেলার ৫টি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি গুলোর পদ বঞ্চিতদের নিয়ে নতুন করে সাজানো হবে। এর ফলে জেলার সকল এলাকায় থাকা গ্রুপিং ও বিরোধ অনেকাংশেই মিটে যাবে। আর কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় কর্মসূচী গুলো বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। সরকার বিরোধী আন্দোলন গতিশীল করার লক্ষ নিয়ে দীর্ঘ ২০ মাস পর এক টেবিলে বসেছেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপি’র নেতারা। গত শনিবার দিন ব্যাপী রাজবাড়ী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে তারা সধারণ সভা করেন। ওই সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে। সভায় বর্তমান সরকারের নানা কর্মকান্ডের সমালোচনা করার পাশাপাশি দলকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ১১ টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাবেক এমপি নাছিরুল হক সাবু, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন চৌধুরী, সদর উপজেলা পরষদের চেয়ারম্যান এডঃ এমএ খালেক, পৌর মেয়র তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, এডঃ আসাদুজ্জামান লাল, আফসার আলী সরদার, অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম দুলাল, ভিপি গাজী আহসান হাবিব, লায়ন আব্দুর রাজ্জাক, খন্দকার মশিউল আযম চুন্নুসহ জেলা কমিটির ১৫১ জন সদস্যের মধ্যে ১২১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
গত রবিবার দুপুরে ওই সভার নানা দিক নিয়ে জেলা বিএনপি’র সধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, তাদের মধ্যে এখন আর কোন গ্রুপিং নেই। কেন্দ্রীয় নির্দেশে এখন তারা দল গোছানোর কাজে হাত দিয়েছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে জেলার ৫টি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি গুলোর পদ বঞ্চিতদের নিয়ে নতুন করে সাজানো হবে। এর ফলে জেলার সকল এলাকায় থাকা গ্রুপিং ও বিরোধ অনেকাংশেই মিটে যাবে। আর কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় কর্মসূচী গুলো বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্র থেকে ২০১১ সালের ২০ জুন ১৫১ সদস্য বিশিষ্ঠ রাজবাড়ী জেলা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এ কমিটির নিয়মিত মিটিং করে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচী পালন করার কথা থাকালেও অভ্যন্তরিন বিরোধের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। যে কারণে দীর্ঘ সময়ে এ কমিটির মাত্র ৬ মিটিং করা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ মিটিং হয় ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে।
এদিকে, গত শনিবার সন্ধ্যার পর জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক এ মজিদ বিশ্বাস স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবারের সভায় ৫ জানুয়ারীর ভোটার বিহিন নির্বাচনের নিন্দা জানানো হয়। একই সাথে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন গুলোতে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া, কেন্দ্রীয় কর্মসূচী সর্ব শক্তি দিয়ে বাস্তবায়ন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ, সামগ্রীক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা, লতিফ সিদ্দিকীসহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন এমপি ও মন্ত্রীর লাগামহীন বক্তব্যে ধর্মীয় বিশ্বাস হিনতা, দেশের নদী গুলো রক্ষায় আওয়ামীলীগের ব্যর্থতা, জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ, আওয়ামীলীগ সরকারের নির্যাতনে নিহতদের আতœার শান্তি কামনা এবং নির্যাতিতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।

(Visited 25 times, 1 visits today)