গোয়ালন্দে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ

আজু শিকদার :

Goalundo Photo 1 (18-10)

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভায় সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরনো সড়ককে সংস্কার করে নতুন নির্মাণ দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে এই কাজটি করছেন পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর। পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ কাজটি তদারকিতে থাকলেও তারা নিজেরাও এ অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।
শনিবার সরেজমিন এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গোয়ালন্দ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত হাউলিকেউটিল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বেড়িবাধ থেকে খালেকের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার পুরনো সড়ককে নতুন করে নির্মাণ করার জন্য কার্যাদেশ পেয়ে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিনিময় এন্টারপ্রাইজ। ওই বছরই ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও অর্থ সংকটের কারণে যথা সময়ে কাজটি শেষ হয়নি। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নিজামউদ্দিন শেখের স্ত্রী সাকিয়া খানম এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী। এলজিইডি’র গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আইইউআইডিপি) অর্থায়নে এ প্রকল্পের অর্থ ব্যায় ধরা হয়েছে ৪৪ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা। গোয়ালন্দ পৌর কর্তৃপক্ষ কাজটির বাস্তবায়নে রয়েছে। এ দিকে অফিসিয়ালি সাকিয়া খানম ঠিকাদার হলেও নিয়ম বহির্ভুত ভাবে তার স্বামী কাউন্সিলর মো. নিজামউদ্দিন শেখ, পৌরসভার প্যানেল মেয়র আলাউদ্দিন মৃধা এবং কাউন্সিলর মো. শাজাহান শেখ এ কাজটি সম্পন্ন করছেন। নিয়ম অনুযায়ী সর্বসাধরনের অবগতির জন্য কাজের বিবরণী দিয়ে প্রকল্প স্থানে সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা নেই।
অভিযোগে জানা যায়, পূর্বের কার্পেটিংকে সম্পুর্ন তুলে ফেলে পর্যায়ক্রমে ৬ ইঞ্চি বালির ফিলিং, ৬ ইঞ্চি বালু ও খোয়ার ফিলিং (এসএস) এবং ৬ ইঞ্চি শুধুমাত্র খোয়ার ফিলিং (মেকাডম) করে ১ ইঞ্চি পুরুত্বের কার্পেটিং করার কথা। অথচ গত বছর পুরনো কার্পেটকে তুলে শুধুমাত্র সড়কের ভাঙ্গা অংশগুলোতে বালু খোয়া ফেলে রুলিং করে রাখা হয়। এ ভাবে প্রায় ১ বছর ফেলে রাখার পর গতকাল শনিবার থেকে ওই সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু এই কার্পেটিংও যথাযথ ভাবে হচ্ছে না। পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলররা জড়িত থাকায় পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ এ কাজে যথাযথ তদারকি না করে বরং কাজের অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।
গোয়ালন্দ পৌরসভার কাউন্সিলর ও অপর প্যানেল মেয়র আফরোজা রাব্বানী এ প্রসঙ্গে বলেন, পুরোনো রাস্তার কার্পেটিং তুলে শুধুমাত্র মেকাডম সংস্কার করে এখন যেনতেন ভাবে কার্পেটিং করা হচ্ছে। নতুন ভাবে করার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন গিয়ে কোন প্রকৌশলীকে না পেয়ে কাজটির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌলশী রেহেনা পারভিনকে মোবাইল ফোনে অনিয়মের কথা জানাই। কিন্তু তিনি কর্ণপাত করেননি।
কাউন্সিলর মো. নিজামউদ্দিন শেখ বলেন, এতদিন অর্থাভাবে কাজটি করা যায়নি। অর্থ বরাদ্দ পাওয়ায় এখন কার্পেটিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী সকল কাজ করা হয়েছে।
কাজের অপর অংশীদার কাউন্সিলর মো. শাজাহান শেখ বলেন, ‘একটি ঠিকাদারি কাজ বের করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক কমিশন দিতে হয়। এতেকরে কাজে কিছুটা উনিশ-বিশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। সর্বোপরি কাজটি ভালো হচ্ছে।’

(Visited 16 times, 1 visits today)