তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার যখন নিয়মিত ছাত্র !

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মুরাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ গত ৯ অক্টোবর দায়ের দায়ের করেছেন মাদ্রাসার সদস্য বাদশা মন্ডল।
অভিযোগে প্রকাশ, বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা এলাকার গণ্যমান্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিগনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসাটি এলাকার ধর্মীয় শিক্ষায় ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ন অবদান রেখে সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। অত্যান্ত দুঃখের বিষয় মাদ্রাসার বর্তমান সুপার মুরাদুল ইসলাম ১৯৮৩ সালে দাখিল পাশ করে এবতেদায়ী শাখার শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। তারই ষড়যন্ত্র ও অপকৌশলের কারণে তৎকালীন সুপার মাওলানা মোঃ ইব্রাহিম মাদ্রাসা ছাড়তে বাধ্য হন। এ সুযোগে মুরাদুল ইসলাম কিছু লোককে ভুল বুঝিয়ে পরিকল্পিত ভাবে সুপার পদে আসীন হন। সুপার মুরাদুল ইসলাম মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখার শিক্ষক থাকাকালীন পাংশা উপজেলার মরডাঙ্গা ও হোগলাডাঙ্গী সিনিয়র কামিল মাদ্রাসার নিয়মিত ছাত্র হিসাবে আলিম, ফাজিল ও কামিল পাশ করেন। একটি লোক একই সাথে নিয়মিত ছাত্র হিসাবে পড়ালেখা ও শিক্ষকতা কিভাবে করলেন তা বোধগম্য নয়। মাদ্রাসার তার নিয়োগের কাগজপত্র ও সার্টিফিকেট দেখলেই এর সত্যতা মিলবে। সুপার মুরাদুল ইসলাম এক সুচতুর ব্যাক্তি। তিনি কমিটির চোঁখে ধুলা দিয়ে মাদ্রাসার নিয়োগ পরীক্ষায় পরিকল্পিতভাবে অপকৌশল অবলম্বন করে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে মাওলানা পদে সোহেলী আক্তার ও সামাজিক বিজ্ঞান পদে পারভীন আক্তারকে নিয়োগ প্রদান করেন। একটি বিজ্ঞপ্তির সময়সীমা থাকে ছয় মাস। অথচ ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি দেন এবং ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল পরীক্ষা নেন। ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই সকল সদস্যেদেরকে ডেকে নিয়ে সুপার রেজুলেশন খাতায় ব্যাক ডেটে সাক্ষর করেন। সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষিকা পদে যিনি প্রথম হয়েছেন সুপার তাকে নিয়োগ না দিয়ে পরীক্ষার খাতার নম্বর টেম্পুয়ারিং করে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ব্যাকডেটে সহি সাক্ষর করে পারভীন আক্তারকে নিয়োগ দেন। সমুদয় অর্থ পরিশোধ না করায় শিক্ষিকার মুল হাজিরা খাতায় সাক্ষর না করিয়ে নিজের তৈরী সাধারন রেজিষ্টারে সাক্ষর করাচ্ছেন। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার খাতা দেখলেই নম্বর টেম্পুয়ারিং করার বিষয়টি ধরা পড়বে। সুপার মুরাদুল ইসলাম ২০১৩ সালের জুলাই মাসে একটি মামলায় ১০দিন কারাগারে থাকেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। মাদ্রাসার সুপার একজন জালিয়াতি ও দুর্নীতি বাজ। ২০০৫ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ফারুকীর সাক্ষর জালিয়াতি করে ধরা পড়ে। সুপারের অনিয়ম -দুর্নীতির তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুলিপি প্রেরন করেছেন, চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাপরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রেস ক্লাব।

(Visited 47 times, 1 visits today)