প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ – দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হলেও ফাইল বন্দি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুশান্ত কুমার রায়ের খুটির জোড় কোথায়? এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন। কুকীর্তির তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করলেও কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় রহস্যজনক কারনে এখনও বহাল রয়েছে। শাস্তি হিসাবে অন্যত্র বদলীর জন্য স্কুলের সভাপতি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করলেও প্রধান শিক্ষক বহাল থাকায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুশান্ত কুমার বাড়ৈ জানান, নটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুশান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠায় সাব কøাষ্টার অফিসার শ্যামলী রায়কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়। তিনি তদন্ত করে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট প্রেরন করা হয়। কোন নির্দেশ না আসায় তাকে বদলী করা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট নটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল হোসেন মোল্যার লিখিত অভিযোগে সুত্রে জানাযায়, ৫৩ নং নটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুশান্ত কুমার রায় মাঝে-মধ্যেই অসামাজিক অপকর্মের সাথে জড়িত। যা শ্রুতিকটু, কু-রুচিপুর্ন দুঃচরিত্রের এক চরম উদাহরন ও সমাজের সর্বজন কর্তৃক ঘৃনিত। কু-কর্ম করে শালিস-জরিমানা দেওয়া তার নিত্য নৈমিত্তিক কাজ। ইতিপুর্বে তার নিজ গ্রামের বিধবা মায়ের অসহায় কন্যা সপ্তম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত চম্পা রানী সমাদ্দারকে বিভিন্ন প্রলোভনে প্রভাবিত করে অবৈধ মেলামেশা পুর্বক তাহাকে অন্তসত্বা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধের নামে অমানষিক নির্যাতনের পর দেশ ত্যাগ করিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে গত ১৭ মার্চ প্রধান শিক্ষক শুশান্ত রায় তার নিজ গ্রাম সন্ধাতে চিত্ত সমাদ্দারের স্ত্রী জোসনা রানী সমাদ্দার (৫০) সাথে আপত্তিকর অবস্থায় চিত্ত সমাদ্দারের ভাতিজা স্বরুপ সমাদ্দার হাতেনাথে ধরে ফেলে। এ সময় সরুপের উচ্চ কন্ঠে কথাবলা শুনিয়া আশেপাশের লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। অতিদ্রুত এই সংবাদ নিকটস্থ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় লোকমুখে এ ঘটনাটি একটি অতিশয় ঘৃনিত বানী হিসাবে প্রচারিত হচ্ছে। যা বর্তমান সমাজ-সভ্যতার আকাঙ্খিত সীমা অতিক্রম করেছে। সেই সাথে যারা ম্যানেজিং কমিটির সাথে সম্পৃক্ত তাদেরও মুখ দেখানো দুঃসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। বারংবার একজন শিক্ষকের এহেন কর্মসাধনে স্থানীয় আমজনতা তথা অভিভাবকদের মধ্যে এক চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারনে আলোচিত ওই শিক্ষক শুশান্ত কুমার রায় যদি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকে তাহলে যে কোন সময় জনরোষের শিকার হতে পারে। আমাদের দ্বারা রক্ষা করা অসম্ভব হবে। বিধায় নিরুপায় হয়ে উক্ত শিক্ষকের জরুরী ভিত্তিতে অন্যত্র বদলী করার অনুরোধ জানাই। সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুলিপি প্রেরন করেছে, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,বালিয়াকান্দি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে। ইতিপুর্বেও ঘটনায়ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে এলাকাবাসী অভিযোগ দায়ের করেছিল।

এরআগে স্কুলের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মনজু, রানু বেগম, হাসিনা বেগম, শিক্ষক প্রতিনিধি তানিয়া খাতুন, হাইস্কুলের শিক্ষক জোৎ¯œা বেগম ও ইউপি সদস্য দ্বীনবন্ধুসহ ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্যে সদস্যদেরকে নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের একাধিক অভিযোগ উঠায় সেচ্ছায় অন্যত্র বদলী হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ নির্দেশ শুধু কাগজে কলমে থেকেছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, জামালপুর ইউনিয়নের সন্ধা গ্রামের বাসিন্ধা ও নটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুশান্ত কুমার রায় সোমবার রাতে একই গ্রামের চিত্ত কুমার সমাদ্দারের অনুউপস্থিতিতে তার স্ত্রী জোৎ¯œা সমাদ্দার (৪০) ঘরে ঢুকে অসামাজিক কার্যকলাপ করে। এসময় চিত্ত সমাদ্দারের ভাতিজা ছুটিতে বাড়ীতে আসা সেনা সদস্য উৎপল সমাদ্দার ও সরুপ সমাদ্দার স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতায় অসামাজিক কাজ করা অবস্থায় হাতে নাথে ধরে পিটুনী দেয়। শোর-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সুযোগ বুঝে শুশান্ত রায় পালিয়ে যায়। এনিয়ে রাতেই এলাকার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এঘটনার পরদিন সকালে সন্ধ্যা গ্রামের ২শতাধিক বাসিন্ধা জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নিকট সুষ্টু বিচারের দাবী জানায়। নিরুপায় হয়ে জোৎন্সা সমাদ্দার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে মারপিটের অভিযোগ এনে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। বিষয়টি নিয়ে রাতে জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম ফরিদ হোসেন বাবুর উপস্থিতিতে এক দায়সারা ভাবে শালিসে আপোষরফা করে দেয়।

এলাকাবাসী আরো জানিয়েছেন, নটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুশান্ত কুমার রায় তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের গুরুতর অভিযোগটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। অর্থের বিনিময়ে ও প্রভাবশালী হওয়ার কারনে একের পর এক অপকর্ম করে পাড় পেয়ে যায়। তার দ্বারা এমন কোন ঘটনা নাই তা করা সম্ভব নয়। তারা এ শিক্ষকের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষক শুশান্ত রায়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি স্কুলে কর্মরত আছি। তদন্ত হয়েছে, তার পর কোন খোজ নেয়নি। তবে অর্থ ছিটানোর কথা বললে তিনি চেপে যান।

নটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন মোল্যা জানান, প্রধান শিক্ষক শুশান্ত রায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অনেক টাকা পয়সা খরচ করেছে। অনেককে টাকা দিয়েছে। আমি তার দ্রুত অন্যত্র বদলীর দাবী জানাচ্ছি।

(Visited 33 times, 1 visits today)