গাভী পালন করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে সংগ্রামী নারী মর্জিনা

সোহেল রানা :

গাভী পালন কারী মর্জিনা

গাভী পালন কারী মর্জিনা

সংসারে অসচ্ছলতা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। চোখে মুখে হতাশার ছাপ। কিভাবে চলবে সংসার, স্বামী, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে চলবে দু‘বেলা খেয়ে। চারিদিকে যখন যখন দেখছিল হতাশা ঠিক সেই মুহুর্তে পাশ্ববর্তী বাড়ীর গো-খামারী মঞ্জুরুল আলমের পরামর্শে ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহযোগিতায় গরু পালন শুরু করেন মর্জিনা বেগম। আজ তিনি একটি গো-খামার গড়ে তুলেছেন। মর্জিনা বেগম রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া গ্রামের মোতাহার মন্ডলের স্ত্রী।
মর্জিনা বেগম জানান, গড়াই নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা হওয়ার ফলে তার স্বামী বেকার হয়ে পড়ে। সংসার চালাতে ও ছেলে -মেয়ের লেখাপড়া কিভাবে শেখাবে তা নিয়ে ছিল চিন্তিত। পার্শ্ববর্তী বাড়ীর মঞ্জুরুল আলম ওরফে মনজু মেম্বারের গাভী পালন দেখে নিজে ইচ্ছা পোষন করেন। নিজের স্বদ ইচ্ছা শক্তি ও মঞ্জুরুল আলমের অনুপ্রেরনায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহযোগিতায় ১৫বছর পুর্বে একটি অষ্টেলিয়ান গাভী দিয়ে শুরু করেন। এখন তার ৪টি গাভী, ২টি বাছুর রয়েছে। প্রতিদিন ৩০-৩৫ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। বাজারে নিয়ে বিক্রি করা ছাড়া কোন সুবিধা নেই। গাভী পালন করে ১ ছেলে মাষ্টার্স ও ১ মেয়ে দশম শ্রেনীতে পড়ালেখা করছে। আয়ের অর্থ দিয়ে ৭শতাংশ জমি ক্রয় করেছে যার বর্তমান মুল্যে ১০ লক্ষ টাকা। প্রতিবছর গাভী পালন করে খরচাদি বাদে ৫০ হাজার টাকা মজুদ করতে পারছেন। গাভীর খাদ্য যোগার করার জন্য ক্রয়কৃত জমিতে নেপিয়ার ঘাসের চাষ করেন। তার স্বামী এখন আর জন বিক্রি করে না। তিনি গরুর দুধ বাজারে বিক্রি ও ঘাসের যোগান দেন। সে একজন সংগ্রামী সফল নারী হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলেও দাবী করেন।
উদ্দ্যোক্তা মঞ্জুরুল আলম জানান, ১৫বছর পুর্বে সে সংসার পরিচালনার জন্য হীমসীম খাচ্ছিল। আমার পরামর্শে গাভী পালন করে এখন খামার গড়ে তুলেছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুল ইসলাম জানান, মর্জিনা বেগম একজন সফল গো-খামারী। তিনি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহযোগিতায় আজ সংসারের চাকা ঘুরিয়ে নিজের ভাগ্যে বদলে ফেলেছেন।

(Visited 100 times, 1 visits today)