বালিয়াকান্দি কৃষি কর্মকর্তার দুর্নীতির তদন্ত শুরু

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরশেদ আলী চৌধুরীর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাটের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য খামারবাড়ীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ করে কৃষকরা। একসপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার তাকে ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলায় বদলী করে। বুধবার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন, রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন । এসময় তার সাথে ছিলেন আব্দুল মান্নান। তারা উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের লিখিত বক্তব্য গ্রহন করেন। তবে কৃষকদের বক্তব্য না গ্রহন করায় তদন্ত নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগে জানাযায়, বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরশেদ আলী চৌধুরী  যোগদানের পর থেকে কৃষি অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করে তোলে। নিজেও কোনদিন মাঠে গিয়ে কৃষকদের সমস্যার কথা শোনেন নি আবার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরকে সারাদিন অফিসে বসিয়ে রেখে খোশগল্পে মসগুল থাকতেন। ফলে গ্রামাঞ্চলের সাধারন কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অফিস গুলো বেদখল ও ভুতের বাড়ীতে পরিনত হয়েছে। তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় মাপের নেতা ছিল বলেও দাম্ভোক্তির সাথে প্রকাশ করেন। যোগদান করেই ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল প্রজেক্ট এনএটিপি প্রকল্পের কার্যক্রমের পুরো অর্থই কতিপয় উপ-সহকারীদের সাথে আতাত করে লুটপাট করেছে। মাঠ প্রদর্শনীর অর্থ আতœসাৎ, কৃষক প্রশিক্ষণ না দিয়েই অর্থ পকেটস্থ , আইপিএম, আইসিএম ক্লাবের বরাদ্ধ সভাপতি- সেক্রেটারীদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ উত্তোলন, সার ডিলার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করে আসছে। তিনি লুটপাট করে অর্থ হাতিয়ে ঢাকার গাবতলীতে জমি ক্রয় করে আলীশান বাড়ী তৈরীর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়াও বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের যদুপুর গ্রামের হাশেম মুন্সীর পুত্র জাহাঙ্গীর মুন্সী কৃষি কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে নিজবাড়ীতে গড়ে তোলে নকল সার ও কীটনাশক কারখানা। যা বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর বিপুল পরিমান নকল সার ও কীটনাশক জব্দ করে থানায় মামলা দায়ের করে। তিনি অভিযানের আগাম খবর প্রকাশ করায় মুলহোতা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অভিযানের সময় একটি লাল রংয়ের খাতা উদ্ধার হয় । উক্ত খাতায় কৃষি অফিসারকে মাসিক হিসাবে টাকা দেওয়ার হিসাবের প্রমান পাওয়া যায়। কৃষি কর্মকর্তা নারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে রিটাইনিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন কালে একটি পক্ষের নিকট থেকে অর্থ গ্রহন করে অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। যা পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করে। বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ফলায় করে প্রকাশ হয়। তার এহেন কর্মকান্ডে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অভিযোগকারী কৃষকরা  জরুরী ভিত্তিতে তদন্তপুর্বক এ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানায়। সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুলিপি প্রেরন করে, মাননীয় মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রনালয়, ঢাকা। সচিব, কৃষি মন্ত্রনালয়, ঢাকা। সচিব, দুর্নীতি দমণ কমিশন, ঢাকা,জেলা প্রশাসক, রাজবাড়ী, উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজবাড়ী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী, সভাপতি/ সম্পাদক, প্রেস ক্লাব, রাজবাড়ী ও বালিয়াকান্দি।  এ প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরশেদ আলী চৌধুরীকে ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলাতে বদলী করে এক ফ্যাক্সবার্তা পাঠায়।  এ বিষয়টি নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে তদন্তের নির্দেশ দিলে তিনি তদন্ত শুরু করেছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির নিকট।

(Visited 49 times, 1 visits today)