খানখানাপুরে নেশাগ্রস্থ ছেলের মারপিটে চোখ হারাতে বসেছে মা

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARI - (2)-20.01

নেশাগ্রস্থ ছেলের মারপিটে রহিমা বেগম (৬২) নামে গুরুতর আহত এক মা তার বাম চোখটি হারাতে বসেছেন। তাকে গুরুতর অবস্থায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই ঘটনাটি রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের দত্তনারায়নপুর গ্রামে ঘটেছে।

রহিমার স্বামী আসলাম পাটোয়ারী জানান, তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার একমাত্র ছেলে মিজান পাটোয়ারী (৩৭) রাজধানী ঢাকায় পরিবহণে সুপারভাইজারী করতো। তবে বছর খানেক আগে মিজান ঢাকা থেকে তার স্ত্রী চম্পা বেগম, শিশু ছেলে মুন্না পাটোয়ারী, মেয়ে মিথিলা ও মিসহাকে নিয়ে বাড়ীতে ফিরে আসেন। যদিও বাড়ীতে ফিরে আসার পর থেকেই মাদকাসক্ত মিজান তাদের উপর অত্যাচার শুরু করে। বাড়ীর বেশ কিছু মালামাল বিক্রি করে ইতোমধ্যেই সে মাদকদ্রব্য সেবন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে সে আরো বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বাড়ীর সকলকেই নির্বিচারে করছে সে মারপিট। একই তার মা’য়ের নামে থাকা বাড়ীর ৩০ শতাংশ জমি সে নিজের নামে লিখে দিতেও চাপ প্রয়োগ করছে। এতে তার মা রাজি না হওয়ায় এক মাস আগেও তাকে বেধড়ক মারপিট করে। সে সময়ও তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দুপুরে ফের সে ভাংচুর শুরু করে। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার মাকে গুরুতর আহত এবং বাম চোখে ক্ষতের সৃষ্টি করে। সে সময় তিনি স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তারও পিঠ ও পায়ে লাঠি দিয়ে পেটায়। এতে তিনিও আহত হন। তাদের দু’জনকেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে আসে। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করলেও রহিমাকে হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হয়েছে। বর্তমানের হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার বেডে তিনি চিকিৎসাধিন রয়েছে। তিনি আরো বলেন মিজানের বিচার হওয়ার দরকার। বিচার না হলে যে কোন সময় তাদের হত্যা করে ফেলবে। যে কারণে ঘটনার দিনই রাজবাড়ী থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে কোন কাজ না হলে আদালতে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন।
আহতের মেয়ে সালমা আক্তার জানান, মিজান ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর বাড়ীর সামনে থাকা তার বাবার মুদি দোকানটির দখল নেয়। তবে ছয় মাসের মধ্যেই দোকানের পুজি সে গায়েব করে ফেলেছে। আর এখন সে নেশার টাকা যোগাতে সে বাড়িটি বিক্রি করতে চায়। এজন্য মা-বাবাকে মাঝে মধ্যে সে মারপিটও করে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ডা. মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে চেখের আঘাত মারাতœক। যে কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী সদর থানা এএসআই সাইফুল মোল্লা জানান, মাকে মারধোর করার বিষয়ে গতকাল বিকাল পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয় নাই।

(Visited 28 times, 1 visits today)