রাজবাড়ীতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে দেশের তৃতীয় তম আর্ট স্পেস

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARIR - (1)-08

রাজবাড়ী জেলা শহর থেকে একটু দুরে শান্ত নিরিবিলি রামকান্তপুরের রায়নগরের স্বর্ণশিমুলতলা গ্রাম। ওই গ্রামেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে দেশের তৃতীয় তম আর্ট স্পেস। ‘বুনন আর্ট স্পেস’ নামে গড়ে ওঠা ওই প্রতিষ্ঠানটির মালিক হলেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনষ্টিটিউটের প্রফেসর ও একুশে পদক প্রাপ্ত খ্যাতনামা চিত্র শিল্পী মনসুর উল করিম। এখানে দু’দিন ধরে চলছে চট্রগ্রাম চারুকলা ইনষ্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রায়ত চারুশিল্পী হাঁসি চক্রবর্তীর স্বরণে আর্ট ক্যাম্প। ওই ক্যাম্পে যোগদিয়েছেন, দেশের প্রতিথযশা নয় জন চারুশিল্পী।

‘বুনন আর্ট স্পেস’ গিয়ে দেখা যায়, আগত শিল্পীরা মনের আনন্দে যে যার মত করে আঁকছেন ছবি। কেউ বা মেশাচ্ছে নানা ধরণের রং, দিচ্ছেন রোদে ছবি তৈরীর কনভাস। আঁকিয়ে পাগল শিল্পীরা যেন হারিয়ে গেছেন অন্যকোন ভূবনে। রাজধানী ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকে আগত ওই সব শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন কাজী হাসিবুল আহসান তন্বয়, সুদিপ্ত মল্লিক সুইডেন, লিটন ভুইয়া, শেখর মন্ডল, গোলাম সরোয়ার খোকন, পিযুষ কান্তি সরকার, মেহেদী হাসান, আশিকুর রহমান চৌধুরী ও সুমন মিয়া।
কাজের ফাঁকে চারুশিল্পী গোলাম সরোয়ার খোকন বলেন, রাজবাড়ীতে এসে বুনন আর্ট স্পেসে পা রাখতেই মনটা ভাল হয়ে গেছে। অত্যান্ত সুন্দর মনোরম পরিবেশে এ আর্ট স্পেসটি একুশে পদক প্রাপ্ত চিত্র শিল্পী মনসুর উল করিম গড়ে তুলেছেন। এখানে ছবি আঁকার জন্য সকল ধরণে সুবিধা রাখা হয়েছে। ইচ্ছা করলেই এখানে অবস্থান করে ছবি আঁকা যায়। দেশের বেশির ভাগ শিল্পীই ঢাকা কেন্দ্রীক। তারা স্টুডিও ভাড়া করে আঁকাআকি করে থাকেন। সেখানকার যান্ত্রিকতাময় পরিবেশে কাজে মননিবেশ করাটাও কষ্টকর।
শিল্পী কাজী হাসিবুল আহসান তন্বয় বলেন, এখানে চিত্র শিল্পী মনসুর উল করিম যে আর্ট স্পেসটি গড়ে তুলেছেন তা যে কোন চারু শিল্পীর জন্যই একটি আকর্শনীয় স্থান। যারা এখানে একবার এসে কাজ করবেন তারা যেখানেই থাকুন না কেন অবশ্যই তাদের মনে পরবে ‘বুনন আর্ট স্পেস’-এর কথা। ‘বুনন আর্ট স্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা যেহেতু একজন চিত্রশিল্পী সেহেতু এখানকার সকল কিছুই চিত্রশিল্পীদের উপযোগী করে গড়ে তোলা। এখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা প্রায় প্রতিটি বস্তুই ব্যতিক্রমী।
অপর শিল্পী সুদিপ্ত মল্লিক সুইডেন বলেন, চিত্র শিল্পী মনসুর উল করিম ও প্রায়ত চারুশিল্পী হাঁসি চক্রবর্তী ছিলেন নিকট বন্ধু ও কলিক। তারা একে অপরকে বুঝতেন। দুই বছর আগে হাঁসি চক্রবর্তী পরোলক গমন করেছেন। তবে তিনি রেখে গেছেন তার তৈরী করা অসংখ্য ক্যানভাস। যে কানভাস গুলো তার স্ত্রী তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাই তারা হাঁসি চক্রবর্তী স্বরণে এখানে আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করেছেন। দু’দিন ব্যাপী এ আর্ট ক্যাম্পে আগত শিল্পীরা যে যার মত করে এখানে আঁকছেন।
‘বুনন আর্ট স্পেস’ -এর প্রতিষ্ঠাতা একুশে পদক প্রাপ্ত চিত্র শিল্পী মনসুর উল করিম বলেন, তিনি রাজবাড়ী জেলার সন্তান। প্রায় ৪০ বছর তিনি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনষ্টিটিউটের পড়িয়েছেন। তার হাতে গড়ে উঠেছেন হাজারো শিল্পী। তবে একটু সুনাম হয়ে যাওয়ার পর পরই বেশিরভাগ শিল্পীরা হয়ে যান ঢাকা কেন্দ্রীক। তারা আর মফস্বলে আসতে চান না। কারণও আছে, ছবি আঁকার বাজার বলতে এখনো ঢাকাকেই বলা হয়। এখনো ঢাকা’র বাইরে ছবির আর কোন বাজার এবং প্রতিষ্ঠান তৈরী হয়নি। দেশের প্রেক্ষাপটে জেলা শহর গুলোর মধ্যে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ময়মনসিংহ এবং এসএম সুলতানের নড়াইলে ব্যক্তিগত আর্ট গ্যালারী রয়েছে। এর বাইরে আর আর্ট গ্যালারী নেই। যে কারণে ঢাকায় না থেকে দেশের তৃতীয় আর্ট গ্যালারী হিসেবে বিগত কয়েক বছর ধরে এখানে তিনি ‘বুনন আর্ট স্পেস’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এখানে নিয়মিত ভাবে আসছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এবং তারা করছেন আর্ট ক্যাম্প। তিনি আরো বলেন, এটি আর্ট ক্যাম্পের পাশাপাশি নাটক, কবিতাসহ নানা ধরণের সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি পেতে শুরু করেছে। তিনি মনে করেন রাজবাড়ীতে একটি আর্ট কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়া প্রয়োজন। কারণ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছবি আঁকার একটি পাঠ্য সূচী রয়েছে। যদিও ওই সব প্রতিষ্ঠানে নেই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া চিত্রশিল্পী শিক্ষক। তাই শিশুরা শিখছে ভুলভাল আঁকা।

(Visited 58 times, 1 visits today)