গোয়ালন্দে উদ্বোধনের দুই মাসেও সংযোগ পাননি পল্লীবিদ্যুতের অনেক গ্রাহক

আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

3)-17.01

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দিতে দালালদের মাধ্যমে তিনগুন অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রায় দুইমাস হতে চললেও এখনও বহু গ্রাহক সংযোগ পাননি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী ওই এলাকায় ৪৬ জন গ্রাহকের সংযোগ উদ্বোধন করেন। কিন্তু ওই এলাকায় মোট গ্রাহকের সংখ্যা ১২৭জন। এদের কাছ থেকে মিটারসহ সংযোগ স্থাপনের জন্য কয়েকটি ধাপে সাড়ে চার হাজার টাকা করে আদায় করেন পল্লী বিদ্যুতের ওয়্যারিংম্যান আ. মজিদ। নিয়ম অনুযায়ী পল্লী বিদ্যুতের সদস্য ফি ৫০টাকা, মিটার বাবদ ৬৫০টাকা ও ওয়্যারিং বাবদ প্রয়োজনীয় বোর্ড, সুইচ, তারসহ সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা সংযোগ প্রতি ব্যায় হওয়ার কথা। তিনগুন টাকা দিয়েও সংযোগ না পেয়ে গ্রাহকরা ক্ষোভ জানালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। এর ১ সপ্তাহের মধ্যে আরো আরো ৪০ জনের সংযোগ দেয়া হলেও এখনো বাকি রয়েছে ৪১জন গ্রাহক।
ভূমিহীন আ. জলিল (৬০), ফজের শেখ (৬৫), হাবিবুর রহমান (৪৫), ইয়াকুব শেখ (৩৫)সহ অনেকেই জানান, ১৫ দিনের মধ্যে সংযোগ দেয়ার কথা বলে গত রমজান মাসের প্রথম সপ্তাহে বাদল মেম্বার ও আ. মজিদ তাদের কাছে টাকা আদায় করে। তারা ভূমিহীন হওয়ায় রেলের জমিতে বসবাস করেন। এ কারণে মেম্বার তাদের কাছ থেকে মিটার বাবদ ৩৫শ, সদস্য হওয়ার জন্য ৫শ এবং রেলওয়ে থেকে জমির লীজ এনে দেয়ার জন্য আরো ৫শ টাকা আদায় করেন। এ টাকা যোগাতে তাদের চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। তবুও বিদ্যুত পাচ্ছেন না।
স্থানীয় ভ্যানচালক শফিকুল ইসলাম (৪০) জানান, ঈদের আগে বিদ্যুত পাব এ আশায় তিনি তার ভ্যানটি বিক্রি করে মেম্বারের হাতে ৪ হাজার টাকা দেন। এর আগে সদস্য করার জন্য আরো ৫শ টাকা করে নেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সংযোগ পাননি।
এ প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য বাদল খান জানান, আব্দুল মজিদ পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার পরিচয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংযোগ স্থাপন করে দেয়ার জন্য মিটার বাবদ ৩৫শ করে টাকা নিয়েছেন। অন্যান্য এলাকাতেও তিনি এ ভাবে টাকা নিয়ে থাকেন।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ী পল্লীবিদ্যুত সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার বিশুধর নন্দ জানান, পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ পেতে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার থেকে ২২শ টাকা লাগার কথা। আ. মজিদ পল্লীবিদ্যুতের কোন ঠিকাদার নন। তিনি একজন প্রশিক্ষিত ওয়্যারিংম্যান মাত্র। এছাড়া রেলের জায়গায় বসবাসকারীদের কাছ থেকে কেউ টাকা আদায় করলেও প্রকৃতপক্ষে তাদেরকে সংযোগ দেয়ার আইনত সুযোগ নেই।

(Visited 18 times, 1 visits today)