পদ্মাপাড়ে মাটি কাটায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ঝুঁকিতে

গণেশ পাল, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

9odia

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীর পার থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। এতে বিশাল জায়গাজুড়ে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হুমকির মুখে পড়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে ওই ঘাট ভাঙনের কবলে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে অনেকে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, নৌবন্দর এলাকার আশপাশে তীর থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্র ফেরিঘাটসংলগ্ন নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১ নম্বর ফেরিঘাটের পাশে নদীর তীর থেকে মাটি কেটে তা ট্রাকে ভরছে একদল শ্রমিক। মাটিবোঝাই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকগুলো দ্রুত ছেড়ে যাচ্ছে। এভাবে মাটি কাটার ফলে বিশাল জায়গাজুড়ে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে।

সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের সর্দার কোমর উদ্দিন জানান, স্থানীয় নিজাম শেখ, সাহেব আলী ও মধু খাঁর নির্দেশে তাঁরা মাটি কাটার কাজ চালিয়ে আসছেন। সেখান থেকে ট্রাকে মাটি ভরে তা বিভিন্ন এলাকার ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ঘাট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছত্রচ্ছায়ায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় মাটিখেকো একটি চক্র গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু কেটে তা বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এবার মাটি কাটার ফলে ১ নম্বর ফেরিঘাটটি হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম এলে ঘাটটি ভাঙনের কবলে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবে এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিআইডাব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের বন্দর কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বলেন, ‘দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাটের পাশে নদীর তীর থেকে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের জন্য দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছত্রচ্ছায়ায় মাটি কাটা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।’

(Visited 22 times, 1 visits today)