রাজবাড়ীতে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেপ্তার, সর্বচ্চ শাস্তির দাবী

নজরুল ইসলাম, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

DSCF5032

রাজবাড়ীতে ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে পড়–য়া এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে গোয়ালন্দ এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় চিকিৎসার পর তার গোপঙ্গা দিয়ে ঝড়তে থাকা রক্ত বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ভয় ও ব্যাথায় এখনো সে কাঁপছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, যে পরিমান রক্ত শিশুটির শরীর থেকে বের হয়েছে, তা পূরণ করতে হলে তাকে কয়েক ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। যদিও গত শুক্রবার রাতেই পুলিশ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ওই ধর্ষকের নাম মিজানুর রহমান (২০)। মিজানুর জেলা সদরের খানখানাপুর ইউনিয়নের চরধোপাখালী গ্রামের পিয়ন জাকির হোসেনের ছেলে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ধর্ষকের সর্বচ্চ শাস্তির দাবীতে আজ রবিবার দুপুরে জেলা সদরের মুকবুলের দোকান এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে এলাকা বাসী।

মেয়েটির মা, বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অত্যান্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান শিশুটি। তার বাবা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার মামাতো এক ভাইয়ের সুন্নেতে খাৎনার অনুষ্ঠান আজ (রবিবাব)। ওই অনুষ্ঠান আয়োজনে পরিবারের প্রায় সকল সদস্যই ছিলেন ব্যস্ত। তার মা মেয়েকে বাড়ীতে রেখে ছাগল আনতে পাশের মাঠে যান। যে কারণে গত শুক্রবার দুপুরে নিজেদের বাড়ীর ঘরের মধ্যে একাই খেলা করছিলেন শিশুটি। এ সুযোগে ওই বাড়ীতে আসে বখাটে মিজানুর রহমান। সে কৌশলে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে এবং জোর পূর্ব শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটির গোপনাঙ্গা দিয়ে প্রচুর পরিমানে রক্ত ঝড়তে শুরু করে। প্রচন্ড ব্যাথায় মেয়েটির চিৎকারে বাড়ীর লোকজন এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মিজানুর পালিয়ে যায়। মেয়েটিকে সে সময়ই নিয়ে যাওয়া হয় জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্সে। তবে সেখানকার চিকিৎসকরা রক্ত ঝড়া বন্ধ করতে না পেরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেভার্ড করে। দ্রুততার সাথে তাকে ফরিদপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানকার চিকিৎসকরাও দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে রাত ১২ টার দিকে রক্ত বন্ধ করতে সক্ষম হন। তবে চিকিৎসকরা বলেছেন, মেয়েটি রক্ত শূন্য হয়ে পরেছে। তাকে সুস্থ্য করতে হলে একাধিক ব্যগ রক্ত দিতে হবে। সেই সাথে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে হবে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকলেও সে ভাল ভাবে নড়াচড়া করতে পারছে না। একটু নড়লেই ব্যাথায় কুকড়ে উঠছে এবং ভয়ে কাঁপছে।
রাজবাড়ী থানার এসআই কাজী সোলাইমান বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির চাচা বাদী হয়ে গতকাল শনিবার সকালে মিজানুরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যেই মিজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকারও করেছে।

(Visited 30 times, 1 visits today)