রাজবাড়ী পৌরসভা নির্বাচন : মেয়র প্রর্থীদের পেশা ও আয়ে অসংগতি

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

1450012872_46554_1

পৌরসভা নির্বাচন রাজবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তিন প্রার্থীই ব্যবসায়ী। তবে তাঁদের পেশা ও আয়ের তথ্যে অসংগতি রয়েছে বলে অনেক ভোটার মনে করেন। তবে প্রার্থীরা অসংগতির অভিযোগ নাকচ করেছেন।
রাজবাড়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মহম্মদ আলী চৌধুরী হলফনামায় পেশা সাধারণ ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিএ পাস। এর আগে একবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যবসা থেকে তাঁর বছরে আয় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং কৃষি খাত থেকে ৩০ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ করেছেন। তাঁর স্ত্রী কামরুন্নাহার চৌধুরী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ। নিজের নামে রয়েছে কৃষিজমির নয় বিঘা ও অকৃষি জমির ৩০ শতাংশ এবং স্ত্রীর নামে আছে কৃষি জমি ৭৫ শতাংশ ও অকৃষি জমি ৬৫ শতাংশ। নিজের নামে একটি দোতলা দালান ও স্ত্রীর নামে একটি টিনশেড বাড়ীর কথাও উল্লেখ করেছেন। নিজের কাছে নগদ টাকা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ও স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকা আছে। ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩ লাখ টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। দায়দেনার ক্ষেত্রে তিনি প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছেন। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ২০ বছর (পরপর তিন কমিটির সভাপতি) দায়িত্ব পালন করেছেন।
মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, ‘এখন আমার তেমন কোনো ব্যবসা নেই। ছেলেমেয়ের পাঠানো টাকাতেই চলি।’
বিএনপির প্রার্থী অর্ণব নেওয়াজ মাহমুদ। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের ছেলে। বিএসসি (টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশলী) ও এমবিএ পাস করা অর্ণব ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। তিনি রপ্তানিকারক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জাদিদ গ্রেইন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তাঁর কাছে নগদ টাকা রয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। নিজের বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ রয়েছে ৬০ হাজার টাকা। ৬৩ তোলা সোনার গয়না, একটি টেলিভিশন, একটি ফ্রিজ, দুটি খাট ও স্টিলের আলমারি রয়েছে। এ ছাড়া শহরের একটি আইটি একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে বা অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। দায়দেনা প্রযোজ্য নয় বলে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন।
অর্ণব বলেন, ‘আমার ব্যবসা নতুন। তাই আয় কম।’
জাতীয় পার্টির প্রার্থী শুকুর চৌধুরী পেশায় ঠিকাদার, তিনি এমএ পাস। নিজের নামে কৃষিজমি রয়েছে ছয় বিঘা। নিজ নামে নগদ ৩ লাখ ও স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা আছে। নয় ভরি সোনার গয়না আছে। তাঁর স্ত্রী রাজবাড়ী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ। শুকুর জমি বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
শুকুর চৌধুরী বলেন, ‘ঠিকাদারি করলেও আমার নগদ টাকা কম। তবে নির্বাচিত হলে কাজ করতে সমস্যা হবে না।’
রাজবাড়ী সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি কেরামত আলী বলেন, মেয়র প্রার্থীরা যে আয় দেখিয়েছেন, তা অসংগতিপূর্ণ বলে মনে হয়। তবে তাঁদের কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা না থাকার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক।

(Visited 6 times, 1 visits today)