বালিয়াকান্দিতে নসিমন চালক হারুন হত্যা মামলার আরেক আসামী গ্রেফতার

সোহেল রানা, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

বহুল আলোচিত রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ী গ্রামের নসিমন চালক হারুন সেখ (২৭) পরকীয়ার জের ধরে হত্যা করা হয়। এ মামলার আরেক আসামী শিবপুর গ্রামের কুরবান সেখের ছেলে কালাম সেখ (২৪) কে পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে। তাকে মঙ্গলবার ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে রাজবাড়ী আদালতে পাঠায়।

বালিয়াকান্দি থানার এস,আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, হারুন হত্যা মামলার আসামী কালাম সেখকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করে মঙ্গলবার রাজবাড়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। ইতিপুর্বে ২ আসামী হারুন সেখের স্ত্রী শিল্পী বেগম ও শুকুর সেখকে গত ২৬ অক্টোবর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গত ২৯ অক্টোবর তাদেরকে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠালে তাদেরকে কারাগারে পাঠায়। তবে অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ী গ্রামের নসিমন চালক হারুন সেখ (২৭) নিখোঁজের ৫৩দিন পর গত ২৩ অক্টোবর দুপুরে পুলিশ বুড়ই বিল থেকে কচুরীপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখা বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত হারুনের মামা ফিরোজ বিশ্বাস জানান, হারুন শেখ একজন নসিমন চালক। দিনে নসিমন চালাতো আর রাতে ইসলামপুর ইউনিয়নের বারমল্লিকা গ্রামের মৃত কওছের সেখের ছেলে আবুল কাশেম শেখের বুড়ই বিলের মাছ পাহাড়া দিতো। গত ১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মাছ পাহাড়া দেওয়ার জন্য আবুল কাশেম তাকে ফোন করে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর আর ফিরে আসেনি। গত ২ সেপ্টেম্বর এব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি সাধারন ডায়রী করেন। দীর্ঘদিনেও সন্ধান না মেলায় ও আবুল কাশেম সেখের সাথে হারুনের স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পেলে গত ১৩ অক্টোবর নিহত হারুনের মা ও মঠবাড়ী গ্রামের আলাউদ্দিন সেখের স্ত্রী শেফালী বেগম বিনা বাদী হয়ে তার ছেলেকে স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিকরা ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে গত ১৪ অক্টোবর হারুনের স্ত্রী ও কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের জামতলা গ্রামের কবেদ শেখ পবনের মেয়ে শিল্পী বেগম (২৫) ও নবাবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণবাড়ী গ্রামের দিন মোহাম্মদ সেখের ছেলে শুকুর সেখ (৩৫) কে গ্রেফতার করেন। গত ২৩ অক্টোবর থানার এস,আই মোশাররফ হোসেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুড়ই বিলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ব্যাপক তল্লাশী চালিয়ে আবুল কাশেম সেখের থাকার জায়গার কাছাকাছি কচুরী পানার মধ্যে বস্তাবন্দী অবস্থায় অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন। লাশটি নিখোঁজ হারুনের বলে তার পরিবারের সদস্যরা সনাক্ত করে।

(Visited 22 times, 1 visits today)