পাংশার রূপালী বেঁচে থাকতে চায়

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARIR - (1)-26.11

প্রায় ৫ মাস পূর্বে ট্রেনের নিচে পরে কেটে গেছে রুপালী বিশ্বাস (৩৫)-এর ডান হাত ও দু’পা। দেনা হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসার পর এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ্য। তবে শয্যাশায়ী। চলাফেরা করার মত নেই তার কোন শক্তি। বলা যায় এখন তিনি পরিবারের বোঝা। তবে তিনিও বাঁচতে চান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্য দশ জনের মত সেও চলতে চায়, ঘুরতে চায় এখানে সেখানে। তবে কোন উপায় নেই তার। আর্থিক অনটনে ওষুধ কেনা আর জীবন ধারণ করাই যেখানে দূরহ। সেখানে হুইল চেয়ার কেনার টাকা কোথায় ?

জানাগেছে, রূপালী রাজবাড়ী পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের প্রেমটিয়া গ্রামের রবি বিশ্বাসের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ীর কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার একতারপুর গ্রামে। সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে বিয়ে দিলেও ছেলেটি সেলুনে কাজ শিখছে। তবে প্রায় ৫ বছর আগে বেধড়ক মারপিট করে স্বামী বিজন বিশ্বাস তাকে তাড়িয়ে দেয়। সেই থেকেই রুপালী বাবার বাড়ীতে। যে কারণে অন্যের বাড়ীতে গৃহপরিচালিকার কাজ করে কোন রকমে জীবন ধারণ করতো সে। সব শেষ তিনি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের একটি বাড়ী কাজ করতেন। সেখান থেকে ছুটি নিয়ে গত ১২ জুন ট্রেন যোগে বাবার বাড়িতে রওনা হন তিনি। ওই দিন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশন থেকে ট্রেন বদলানোর সময় চলন্ত ট্রেনের নীচে চলে যায় তার শরীর। এতে বিচ্ছিন্ন হয় ডান হাত ও ডান পা এবং বাম পা’য়ের পাতার কিছু অংশ। সে দিনই তাকে ভর্তি করা হয় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে পাঠানো হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। ছয় দিন থাকার পর অর্থাভাবে ফিরিয়ে আনা হয় বাড়িতে। এলাকার কিছু মানুষ উদ্যোগি হয়ে ১০ হাজার টাকার সাহায্য তুলে তাকে পাঠায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান দুদিন পর তাদের জানানো হয়; এখানে এই রোগীর চিকিৎসা হবেনা। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয় পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসার পর রূপালী এখন কিছুটা সুস্থ্য।
রূপালীর মা আনু বিশ্বাস জানালেন, সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি হলো রুপালীর বয়োবৃদ্ধ রবি বিশ্বাস। তিনি পেশায় একজন ঘরামি। রূপালীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাকে সর্বস্ব বিক্রি করতে হয়েছে। সমিতি থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন। এখনও প্রতিদিন দেড়শ টাকার ওষুধ কিনতে হয়। ছয় জনের সংসারে আবার একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। রূপালীর বাবা যে আয় করে তা দিয়ে সংসারই চলে না। রূপালীর ওষুধ কিনবে কী করে। রূপালী একটু বসার জন্য প্রতিদিনই কান্না কাটি করে। কিন্তু ওর তো বসার ক্ষমতা নেই। একটা হুইল চেয়ার হলেও অন্তত এখানে ওখানে যেতে পারতো। পেত বেঁচে থাকার প্রেরনা।
চোখের জল যেন রূপালীর নিত্যসঙ্গী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রূপালী বলেন, আমার জন্মটাই যেন পাপ। বিয়ে হলো অথচ স্বামীর ঘর করতে পারলাম না। ট্রেনে হাত পা হারালাম। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বিছানা শয্যায়। এটা কোন জীবন নয়। মরে গেলে বেঁচে যেতাম। এভাবে আর বেঁচে থাকা যায় না। এখন অন্ততঃ একটা হুইল চেয়ার হলেও বসে সময়টা পার হতো। বিছানায় শুয়ে কতক্ষন থাকা যায়।

(Visited 39 times, 1 visits today)