কুয়াশা থেকে মুক্তি পেতে ১০ ফেরিতে ফগ লাইট স্থাপন, ৫ কোটি টাকার শ্রাদ্ধ !

আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

DSCF4092

কুয়াশায় ফেরি সার্ভিস চালু রাখতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আমেরিকা থেকে আমদানি করা উন্নত মানের ১০টি ফগলাইট ফেরিতে স্থাপন করলেও কুয়াশায় ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকছে। এতেকরে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কুয়াশায় যদি ফেরিগুলো সচল না থাকে তবে কেন এ ফগলাইট স্থাপন? তবে কি শুধুই ৫ কোটি টাকার শ্রাদ্ধ!

সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে শীতকালের প্রায় পুরোটা জুড়ে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতেকরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ভাবে ব্যহত হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যার বহুমূখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ অবস্থার উত্তরন ঘটাতে চলতি বছরের এপ্রিলে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম খান ফেরিতে উন্নতমানের ফগলাইট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নৌ মন্ত্রনালয়ে পত্র দেন। মন্ত্রনালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গত জুনে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ১০টি ফেরিতে ফগলাইট স্থাপন করে। প্রতিটি ফগলাইট সাড়ে ৭ হাজার কিলোওয়াটের ক্ষমতা সম্পন্ন এবং প্রতিটির ক্রয়মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। ফগলাইট স্থাপন করা ফেরিগুলো হচ্ছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের রোরো ফেরি খানজাহান আলী, শাহ আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত ও কে-টাইপ ফেরি কপোতি এবং শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি রুটের রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, শাহ আমানত ও শাহ পরান।
এদিকে, ফগলাইট স্থাপনের সময় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নেভিগেশনাল এইড সংযোজনের মাধ্যমে দেশে এ প্রযুক্তি প্রথম ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে করে আগামী শীত মৌসুমে আগের মতো ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে না। কিন্তু কুয়াশার মৌসুম শুরুতেই ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকছে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ফেরি মাস্টার জানান, যে উদ্দেশ্যে ফগলাইট স্থাপন করা হয়েছিল তার কিছুই হচ্ছে না। কোটি কোটি টাকা খরচ করে এ ধরনের ফগ লাইট দেয়া হয়েছে কার স্বার্থে বলেও তারা প্রশ্ন রাখেন।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা ইউনিটের ব্যবস্থাপক (মেরিন) আব্দুস সাত্তার জানান, ঘন কুয়াশায় ফগলাইট গুলো কোন কাজেই আসছে না। ফলে যে উদ্দেশ্যে লাইটগুলো স্থাপন করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য পুরন হচ্ছে না। লাইটগুলো মন্ত্রনালয় থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হয়েছে। এ সম্পর্কে আমরা তেমন কিছু জানিনা।
বিআইডব্লিউটি’র আরিচার প্রকৌশলী এনামুল হক অপু জানান, হালকা কুয়াশায় ফগলাইট গুলো কিছুটা কাজ করে। কিন্তু ঘন কুয়াশায় ফেরির সামনের মার্কার, বয়াসহ অন্যান্য কিছুই দেখা যায় না। যে কারণে ফগলাইট গুলো কোন কাজে আসছে না।
এ প্রকল্পের পরিচালক ও বিআইডব্লিউটিসি ঢাকার জিএম (মেরিন) ক্যাপ্টেন শওকত সরদার বলেন, বিগত বছর নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ সময় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের মাঝ নদীতে আটকে থাকেন। প্রতি শীত মৌসুমেই দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা দূর্ভোগ পোহান। তাই কুয়াশার মধ্যে ভিভিআইপিসহ যান পারাপার স্বাভাবিক রাখতে ফগ লাইন স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। মূলত নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৭ হাজার ওয়ার্ডের ওই ফগ লাইট (সার্স লাইট) গুলো আমেরিকা থেকে আমদানী করা হয় এবং পরীক্ষা মূলক ভাবে তা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটের ৬টি ফেরীতে স্থাপন করা হয়। ৫ মাস আগে সে গুলো লাগানো হলেও বর্তমানে ঘন কুয়াশার মৌসুম শুরু হওয়ায় তা এখন কোন কাজে আসছে না। এ লাইট স্বল্প কুয়াশায় কার্যকর, তবে অধিক কুয়াশায় কাজ করছে না। তাহলে এ প্রকল্পটি ভুল ছিল-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি পরীক্ষা মূলক ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ফগ লাইট কত টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকায় আসেন ফাইল দেখে জানানো হবে। (সুত্র-গোয়ালন্দ নিউজ ২৪ ডট কম)

(Visited 82 times, 1 visits today)