জেলা শহরের বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দারা নানা সমস্যায় জর্জরিত

সোহেল রানা, রাজবাড়ী বার্তা ডট :

Rajbari Picturs-2

বাংলাদেশে হাজং, কোচ, বানাই, মারমা, চাকমা, গারো, সাঁওতাল, উঁরাও, মুন্ডা, খাসিয়া, মণিপুরী, খুমি, খিয়াং, লুসাই, বম, ¤্রাে, রাজবংশী, হরিজন, ডোম, সুইপার, ঋষিসহ বিভিন্ন নৃতান্ত্রিক জনগোষ্টি বসবাস করেন। তারা তাদের স্বকীয়তা, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ মুল্যেবোধ ও ঐতিহ্য দিয়ে আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে এসকল বর্নের মানুষের গৌরবোজ্জল অবদান রয়েছে। নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখে যাতে সকলের মত সমান মর্যাদা ভোগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু এসকল বর্ণের মানুষ আজ অবহেলিত। অবহেলার শিকারের মধ্যে অন্যতম হরিজন জনগোষ্টি। বিটিশ উপনি রাজত্বকাল থেকে হরিজন জনগোষ্টির পুর্বপুরুষ বসবাস করছে। ওই জমিতে আড়াইশত বছর দখল সত্ব থেকেও তারা জমির মালিকানার অধিকার থেকে বঞ্চিত আজও। রাজবাড়ী পৌর শহরের দৌলৎদিয়া- পোড়াদাহ রেলওয়ে ষ্টেশন ঘেষে সরকারী জমিতে গড়ে ওঠা বিবেকান্দ্র হরিজন পল্লী। অনেকেই সরকারী কোয়াটারে মাসিক ভাড়া দিয়ে বসবাস করেন। আবার অনেকে এনজিও থেকে ঋন নিয়ে ও বিভিন্ন উপায়ে পাটকাঠি, টিনসেট ঘর উত্তোলন করে স্ত্রী, সন্তান, মাতা-পিতা নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করেন। সরকারী জমিতে পুর্বপুরুষের আমল থেকে বসবাস করলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি মাথা গোজার একখন্ড ভিটে। নিজের জমি না থাকার ফলে আবাসন সমস্যা তাদের অন্যতম। তাদের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যদের প্রধান আয়ের উৎস সামান্য বেতনে পৌরসভায় চাকুরী। সামান্য বেতনে জীবন ও জীবিকার চাহিদা মেটানো দুষ্কর। সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে, সরকারী অন্যান্যে সুযোগ সুবিধার ন্যায্য দাবীর হিস্যা না পাওয়ায় তারা নিজ উদ্দ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি সমবায় সমিতি। এ বিবেকান্দ পল্লীর শিশুরা অল্প সংখ্যক ৫বছরে বয়সে ও বেশির ভাগ শিশু ৬ থেকে ৭বছর বয়সে স্কুলে যায়। এ পল্লীর ৮২জন স্কুল, কলেজ ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। এদের মধ্যে ছেলে ৪০জন ও মেয়ে ৪২জন। ছেলেরা বেশির ভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেড়–তে পারেনি। হাতে গোনা ২-৪জন কলেজের গন্ডি পেরিয়েছে। মেয়েরা হাই স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরই তাদেরকে বিয়ে দিতে পাত্র খুজতে শুরু করে। তাদের অধিকাংশই সঠিক কর্মসংস্থান না থাকার কারনে আর্থিক অসচ্ছলতা থাকে সারা বছর। সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে হরিজনদের অগ্রাধিকার থাকলেও আজ তাদের দাবী ও অধিকার উপেক্ষিত। সকল পদে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজন কিছু আর্থিক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে চাকুরীতে যোগদান করছে। ফলে তাদের কে চাকুরী না দেওয়ায় বেকার সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারী কোটায়ারে বসবাস করলেও দীর্ঘদিন কোন প্রকার সংস্কারের উদ্দ্যোগ না নেওয়ায় জরাজীর্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা না থাকায়। বিবেকান্দ পল্লী সংলগ্ন পৌরসভার পানির ট্যাংক স্থাপন করা হলেও পানি সরবরাহ করা হয়না হরিজন পল্লীর বাসিন্ধাদের মধ্যে। ৪০টি টিউবয়েল বসিয়ে সুপেয় পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন তারা। পল্লীর জন্য পৌরসভা থেকে ৫টি বাথরুম নির্মান করা হলেও বর্তমানে ২টি রয়েছে সচল। তাও অকেজো ও ব্যবহার করার অনউপযোগি হয়ে পড়েছে। ৩-৪টি পরিবার মিলে ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছেন। শিশুদের খেলাধুলার নেই কোন খেলার মাঠ। তাইতো অনাগ্রসরতা রয়েছে খেলাধুলায়। তাদের ভাগ্যেকে জুটবে না এক খন্ড জমি।
রাজবাড়ী বিবেকান্দ হরিজন পল্লীর বাসিন্ধা গৌতম দাস, কৃষন, পাপন, রবিলাল, রতন ভক্ত, মিতা সরকার, রাজকুমার , মিলন দাস হেলা, রাধা রানী, শ্যাম ভক্ত, উত্তম দাস, রমেন সরকার, সঞ্জয় সরকার জানান, বাপ দাদার নয় বিটিশ আমল থেকে পুর্ব পুরুষেরা সরকারী জমিতে বসবাস করে আসলেও আমাদের ভাগ্যে এক টুকরো জমি জোটেনি। স্বাধীন দেশে বসবাস করেও যেন আমরা পরাধিন জীবন যাপন করছি। সরকার সারা দেশে ভুমিহীনদের মাঝে খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করলেও আমরা কি ভুমিহীন হতে পারিনি। ঘর উত্তোলন করতে না পারার ফলে পরিবারের লোকজনদেরকে নিয়ে গাদাগাদি করে একঘরে বসবাস করতে হয়। খেলাধুলার নেই কোন পরিবেশ।
বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি বাসুদেব মন্ডল জানান, রাজবাড়ী বিবেকন্দ্র পল্লীতে প্রায় ৮৫টি হরিজন পরিবারের ৯শত লোকের বসবাস। এদের মধ্যে ১১জন কলেজে, ১৪জন হাই স্কুলে, ৭জন শিশু শ্রেনীতে ও ৫০জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বেশির ভাগ ছেলে মেয়েরা ৭ম শ্রেনী থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করে ঝড়ে পড়ে। প্রায় ৬৫জন পৌরসভায় ১৩ শত টাকা থেকে ২৭শত টাকা বেতনে চাকুরী করে। তাও আজ বঞ্চিত হচ্ছে। তারা আওয়ামীলীগ সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহার বাস্তবায়নে ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানে হরিজন পল্লীর পরিবারগুলোর মধ্যে মাথা গোজার ঠাই পায় সেলক্ষে তাদের নামে জমি বন্দোবস্ত প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রানের দাবীতে পরিনত হয়েছে।

(Visited 28 times, 1 visits today)