“সার্কাস দলে আর যোগ দেয়া হলো না লাল বাহাদুরের”

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARIR - (5)-19.11

“অসুস্থ্য হয়ে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে আনা হয়েছিল ৩৬ বছর বয়সী হাতি লাল বাহাদুরকে। তবে তাকে টানা ৬ দিন চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন, রাজবাড়ীর প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসকরা। যদিও অসুস্থ্য হাতি লাল বাহাদুরকে নিয়ে রাজবাড়ী বার্তা ডট কম -এ গত ১৪ নভেম্বর “ইনজেকশন দেখে হাতির ভয় !” শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। পাঠক নন্দিত ওই রিপোর্টর পর প্রায় প্রতিদিনই জেলার বিভিন্নস্থান থেকে মানুষ হাতিটি দেখতে জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে আসতো এবং অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিতেন।

প্রায় দুই বছর ধরে হাতি লাল বাহাদুরকে লালন পালন করা মাহুথ (হাতির পরিচালক) রবিউল সেখ বলেন, গত ১৩ নভেম্বর বিকাল থেকে হাতি লাল বাহাদুরকে এ হাসপাতালে রেখে চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছিলেন। তবে গত মঙ্গলবার থেকে সে পানি ছাড়া আর কিছুই খাচ্ছিল না। ওষুধ মিশ্রীত ইনজেকশন ও স্যালাইন দেয়া হচ্ছিল তাকে নিয়মিত। তবে শেষ রক্ষা হলো না তার, সুস্থ্য হয়ে ফেরা হলো না আর সার্কাস দলে। গতকাল সকাল ১১ টার দিকে হঠাৎ করেই সে মাটিতে পরে যায়। ওই ঘটনার প্রায় ১০ মিটির পর সে মৃত্যর কোলে ঢলে পরে।
সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল্লাহ মোঃ আহ্সান বলেন, লাল বাহাদুর পানি শূন্যতা, বদ হজম, কৃমি ও বিপাকীয় গোলযোগে আক্রন্ত ছিল। তার জিহবায় ছিল প্রচুর পরিমানে খা। ধারনা করা হচ্ছে প্রচুর পরিমান কৃমির আক্রমনে তার লিভার অকেজো হয়ে যায় এবং সে মারা যায়। তিনি আরো বলেন, হাতিটি অসুস্থ্য হয়ে আসার পর থেকেই ফরিদপুর প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন ও ঘাস উৎপাদন) ডাঃ হাসানুজ্জামান, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গণেশ চন্দ্র মন্ডল ও তিনি চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। একই সাথে ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রাক্তন কিউরেটর ডাঃ এবিএম শহিদুল্লাহ, ভ্যাটেনারী সার্জন ডাঃ নাজমুল আহসানের কাছ থেকে পরামর্শও গ্রহণ করা হচ্ছিন। ওই দুই কর্মকর্তার এ হাতিটির চিকিৎসা করতে গতকালই রাজবাড়ীতে আসার কথা ছিল। মৃত হাতিটির জিহ্বা, লিভার, কিডনি, হার্টসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিডিআইএল-এ পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গণেশ চন্দ্র মন্ডল, হাতিটি চিকিৎসা প্রদানের পর দুই দিন বেশ ভাল ছিল। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছিল তাকে ঢাকা চিড়িয়াখানায় হস্তান্তরের। তবে নেবার সময় কোন অঘটন ঘটের যাবার আশংকাতেই তাকে এখানে রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। হাতিটির মৃত্যুর পর তা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলা হয় হাতিটি মাটি চাপা দিয়ে রাখতে। পরবর্তীতে মাটি খুড়ে হাড়গোড় নিয়ে যাবে। যে কারণে হাতিটিকে জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের ক্যাম্পাসেই মাটি চাপা দেয়া হয়েছে।
সহকারী মাহুথ জসিম গোলদার বলেন, লাল বাহাদুর ইনজেকশন দেখে ভয় পেতো। তবে লাল বাহাদুর অন্য হাতিদের মত নয়। সে যথেষ্ট চঞ্চল, কর্মঠো এবং শিকারী ছিল। তাকে এক কথা দু’বার বলতে হতো না। লাল বাহাদুরের বয়স ছিল ৩৬ বছর। আগে সে সিলেটের জঙ্গলে কাঠ টানতো। তবে বয়স বেড়ে যাওয়ায় গত দুই বছর ধরে তাকে সার্কস দলে ভাড়া দেয়া হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, তারা কুষ্টিয়ার “কমলা সার্কাস” নামে একটি সার্কাস দলের সাথে রয়েছেন। সাম্প্রতি তারা রাজবাড়ী জেলা শহর থেকে ৩০ কিলো মিটার দুরে থাকা পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুরের সার্কাস প্যান্ডেলে আসেন। তবে জেএসসি পরীক্ষার কারণে তারা প্রদর্শন শুরু করেননি। গত ১০ নভেম্বর লাল বাহাদুর হঠাৎ করেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করতে থাকে। পায়খানাও করেছিল খারাপ। কোন উপায় না দেখে গত ১৩ নভেম্বর দুপুরে ট্রাকে করে তাকে আনেন রাজবাড়ীর প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে।

(Visited 27 times, 1 visits today)