চিকিৎসক সংকটে ভুগছে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম ডেক্স :

ospital-Pic-copy

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনে কেউ না থাকায় মাদকসেবীরা এটিকে আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে কর্মরত আছেন ১২ জন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৭৯ জন কর্মচারীর মধ্যে কর্মরত আছেন ৬২ জন।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পদটি দুই বছর ধরে শূন্য আছে। প্রায় তিন বছর ধরে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের পদটিও শূন্য। সার্জারি বিশেষজ্ঞ মো. আল আজাদ গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর যোগদানের ১০ দিন পর অন্যত্র বদলি হন। এরপর থেকে এখনো পদটি শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রেষণে আছেন। চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ইউনুস আলী মোল্যা ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে প্রেষণে যান। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস ২০১০ সালের ৯ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রেষণে যান। ডেন্টাল সার্জন শামীমুর রহমান ২০১৩ সালের মে মাসে প্রেষণে চলে যান। চলতি বছরের শুরুর দিকে গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফারজানা ইসলাম যোগদান করলেও গত ২৩ জুন তিনি ঢাকার রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে যান।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য গোলাম মতুর্জা বলেন, চিকিৎসক কম থাকায় রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল সীমানার মধ্যে থাকা আবাসিক ভবনগুলো খালি থাকায় মাদকসেবীরা সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন করে ও আড্ডা দেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ ঘোষ বলেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনে মাদক সেবনরত অবস্থায় দুই তরুণকে আটক করেন তিনি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাঁদের পাঁচ দিন করে কারাদন্ড দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, প্রায়ই এ ধরনের অভিযান চলার কারণে এখন মাদকসেবীদের তৎপরতা কিছুটা কম।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক শফিউল আজম বলেন, চিকিৎসকদের অনেকেই এমনকি কয়েকজন সেবিকাও প্রেষণে থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উত্তর চর পাচুরিয়া গ্রামের তমসের মৃধা বলেন, গত মাসে তিনি দুর্ঘটনায় আহত হন। তখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য এলেও কোনো সেবা পাননি তিনি। পরে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সালমা সিদ্দিকা বলেন, এখনো অনেক বিষয় তাঁর জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (সুত্র-প্রথম আলো)

(Visited 16 times, 1 visits today)