“ইনজেকশন দেখে ভায় পায় লাল বাহাদুর”

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARIR - (3)-13

লাল বাহাদুর বড়সড় একটি হাতি হলে কি হবে, ইনজেকশন দেখে সেও ভয় পায়। যদিও সে অসুস্থ্য হয়ে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, হাটা চলাও করতে পারছে না ঠিত মত। মাউথ ও তার সহকারী তাকে নানা ভাবে সতেজ রাখার চেষ্টা করছে। তবে তাতে কোন লাভ হচ্ছে না। ক্রমেই অবনতি হচ্ছে তার শাররীক অবস্থা। তবে ডাক্তার এসে ইনজেকশন বের করতেই। চঞ্চল হয়ে ওঠে লাল বাহাদুর। চিকিৎসক ইনজেকশনের মধ্যে ওষুধ ঢুকিয়ে মাউথকে দেন লাল বাহাদুরের পিঠের পেছনের অংশে দিতে। তাই না দেখে লাল বাহাদুর ভয়ে হলো কাবু, সে আর পেছনে জেতে রাজি নয়। সহকারী মাউথ যতই তাকে পেছনে যেতে লাঠি দিয়ে গুতা দিচ্ছে, ততোই সে চলে আসছে সামনে। গতকাল শুক্রবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে রাজবাড়ী জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের সামনে। সে সময় হাতির ইনজেকশন না নেবার বাহানা দেখে উপস্থিত অনেকেই মুচকি হাঁসে।

এ সময় লাল বাহাদুরের সাথে থাকা মাউথ (হাতির পরিচালক) রবিউল সেখ বলেন, লাল বাহাদুর ইনজেকশন দেখে ভয় পায়। তাই সে পেছনে যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, লাল বাহাদুর অন্য হাতিদের মত নয়। সে যথেষ্ট চঞ্চল, কর্মঠো এবং শিকারী। তাকে এক কথা দু’বার বলতে হয় না। লাল বাহাদুরের বয়স এখন ৩৬ বছর। আগে সে সিলেটের জঙ্গলে কাঠ টানতো। তবে বয়স বেড়ে যাওয়ায় গত দুই বছর ধরে তাকে সার্কস দলে ভাড়া দেয়া হয়েছে। যদিও বছর দশেক আগে সে একবার অসুস্থ্য হয়েছিল। সে যাত্রায় রক্ষা পেলেও এবার তার অবস্থা বেজাই কাহিল। পায়ে হেঁটে চলারমত অবস্থাও তার নাই।
তিনি আরো বলেন, তারা কুষ্টিয়ার “কমলা সার্কাস” নামে একটি সার্কাস দলের সাথে রয়েছে। সাম্প্রতি তারা রাজবাড়ী জেলা শহর থেকে ৩০ কিলো মিটার দুরে থাকা পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুরের সার্কাস প্যান্ডেলে আসে। তবে জেএসসি পরীক্ষা চলায় তারা এখনো প্রদর্শন শুরু করেননি। খাবার সংগ্রহের জন্য মাঝে মধ্যেই তারা লাল বাহাদুরকে ওই এলাকায় ঘুড়িয়ে থাকেন। তিন দিন পূর্বে লাল বাহাদুর হঠাৎ করেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করতে থাকে। পায়খানাও করে খারাপ। ধিরে ধিরে তার অসুস্থ্য হতে থাকে। কোন উপায় না দেখে তিনি গতকাল দুপুরে ট্রাকে করে তাকে আনেন রাজবাড়ীর প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে। তবে এখানে আসার পর পরেন তিনি বেকায়দায়। চিকিৎসক নেই।
তিনি আরো বলেন, দেড় বছর আগে তাদের সার্কাস টিমে থাকা হাতি আকবর বাহাদুরকে তিনি এ হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দিয়েছেন। টানা ৭ দিন নিবির পরিচর্যা এবং ওষুধ সেবন করিয়ে তৎকালিন সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সৌরেন্দ্র নাথ সুস্থ্য করেছিলেন। পরে ওই ডক্তার সুন্দর মালা নামে আরো একটি হাতিকেও প্যারালাইসিসের হাত থেকে সাড়িয়ে তোলেন। ওই ডাক্তারের ভরসাতেই তিনি এবারও অসুস্থ্য হাতি লাল বাহাদুরকে এ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে সে ডাক্তার অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় এ হাতিকে নিয়ে পরের বিপাকে। অনেক খোঁজা খুজির পর বিকাল ৪ টার দিকে সেখানে আসেন সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল্লাহ মোঃ আহ্সান।
সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল্লাহ মোঃ আহ্সান বলেন, লাল বাহাদুর পানি শূন্যতা, বদ হজম, কৃমি ও বিপাকীয় গোলযোগে আক্রন্ত। তাকে স্যালাইন ও একাধিক ইনজেকশন প্রদান করতে হচ্ছে।

(Visited 45 times, 1 visits today)