আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় পাংশার তসলিমার বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARIR - (1)-11.11

যৌতুকের টাকায় মোটরসাইকেল কিনতে না পাড়ায় তাসলিমা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধু’র শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিট থেকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তাসলিমার লাশ রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার পারনারায়ন গ্রামে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের আহাজারীতে এলাকার বাতাস ভাড়ি হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী নিষ্ঠুর ওই হত্যার বিচার চেয়ে তাৎক্ষনিত বিক্ষোভ প্রর্দশন ও মানববন্ধন করে।

জানাগেছে, রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার পারনারায়ন গ্রামের আবু তালেব সেখের মেয়ে তাসলিমার সাথে ১২ বছর পূর্বে পাশ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের নজরুল মালিথার মোবাইল ফোনের টাওয়ার নির্মাণ শ্রমিক আরিফ মালিথার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে ৩ বছর বয়সী ছেলে তাসিম মালিথা এবং ১০ বছর বয়সী মেয়ে আরমিন খাতুন রয়েছে।
তাসলিমার ভাই খায়রুল সেখ বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার দুলাভাই আরিফ মালিথা মোটা অংকের যৌতুকের টাকা এনে দেবার জন্য তাসলিমাকে নির্যাতন করে। সাম্প্রতি আরিফ একটি মোটর সাইকেল কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা পুনরায় দাবী করে। তারা গরীব মানুষ হওয়ায় ওই টাকা দেবার কোন সমর্থ না থাকায় অসহায় তাসলিমা স্বামীর বাড়ীতে নির্যাতন সইতে থাকে। গত ৭ নভেম্বর দুপুরে একই দাবীতে ফের নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে আরিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা তসলিমার শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার মুখ ব্যতিত প্রায় পুরো শরীর ঝলসে যায়। তাকে দু’দিন ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এক পর্যায়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে রাজধানী ঢাকার বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। ওই হাসপাতালেই ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বিকালে লাশ পাংশায় নিয়ে আসা হয়।
ভোড়ামারা থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় তাসলিমার বাবা বাদী হয়ে আরিফ মালিথাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার আসামী ও আরিফের বাবা নজরুল মালিথা, চাচা আমিরুল মালিথা ও সামসু মালিথাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামী আরিফকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, গতকাল বিকালে তাসলিমার বাড়ীতে আগত এলাকাবাসী ওই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ঘাতক আরিফসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারপূর্বক শাস্তির দাবী জানান। তারা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। এ সময় নিহত তাসলিমার দুলাভাই শিহাবুল, বোন শিউলি বেগম ও চাচা সাহেব আলী বক্তৃতা করেন।

(Visited 26 times, 1 visits today)