বালিয়াকান্দির নিখোঁজ নসিমন চালক ৪ দিন পর উদ্ধার

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া বাজার থেকে শনিবার ভোর রাতে পিঁয়াজ বোঝাই করে যশোরের উদ্দ্যেশে ৫টি নসিমন যায়। এক নসিমন সহ চালক নিখোঁজ হওয়ার ৪দিন পর গত ১ জুলাই যশোর সেই পিয়াজ আড়ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম শামসুল মন্ডল (৪৫)। তার পিতার নাম বদর উদ্দিন মন্ডল। বাড়ী উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের চরঘিকমলা গ্রামে। অসুস্থ শামসুল তার ভাই আজিজুল ও ফরিদের কাছ থেকে ২শত টাকার ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে ৪০ হাজার টাকার জোড়পুর্বক স্বাক্ষর করে ষ্ট্যাম্প করে নিয়েছে ও মারপিট করেছে। তাকে অসুস্থ অবস্থায় বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত শামসুলের ভাই ফরিদ মন্ডল জানান, শনিবার ফজরের নামাজ পড়ে শামসুল মিরাপ মোল্যা , ফিরোজ, মিলন, টিপুর সাথে নারুয়া বাজারের ব্যবসায়ী বিপ্লব সাহা ও কানু সাহার পিঁয়াজ নসিমন ভর্তি করে যশোর আড়তের উদ্দ্যেশে রওনা হয়। পথে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ঢুমাইন বাজারে আমার ভাইকে যেতে বলে তারা চা খেতে লাগলে ভাই শামসুল গাড়ি নিয়ে চলে যায়। পরে আমরা আর শামসুলকে খুজে পাই না। বিষয়টি নিয়ে ওই সকল নসিমন চালক ও পিঁয়াজ মালিকের সাথে নিয়ে বালিয়াকান্দি থানায় ও মধুখালী থানায় যাই। নসিমন চালকদের ও পিঁয়াজ মালিককে চাপ সৃষ্টি করলে মঙ্গলবার রাতে খবর দেয় নিখোঁজ শামসুল মন্ডল যশোর কালীবাড়ীর আড়তদার নারায়ন সাহার আড়তে রয়েছে। তার খোঁজ নিতে গেলে আড়তদার নারায়ন সাহা ও তার সহযোগিরা শামসুলকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানতে পারি। তখন প্রতিবাদ করায় পিঁয়াজ মালিক বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামের সুখেন্দ্রনাথ সাহার পুত্র বিপ্লব কুমার সাহার নামে পিঁয়াজ বাবদ ৪০ হাজার টাকার ষ্ট্যাম্প করে দিতে বলে। দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের তিন ভাইকেই মারপিট করে জোড়পুর্বক স্বাক্ষর নেয়। গত ১ জুলাই রাত ২টার দিকে বাড়ী আসলে শামসুল অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ নিখোঁজের পিছনে পিঁয়াজ মালিক ও নসিমন চালকদের সম্পৃক্তরা রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে। শামসুল উদ্ধার হলেও তার নসিমন ও পিঁয়াজ উদ্ধার হয়নি।

এ ব্যাপারে শামসুলের সাথে কথা বলতে চাইলে সে কোন রকম কথা বলতে পারেনি।

(Visited 33 times, 1 visits today)