বাবা আহত, মা অসুস্থ্য- রাজবাড়ীতে ঘুমন্ত স্কুল ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

 

অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া এক ঘুমন্ত ছাত্রী (১৩) কে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে নির্মম ভাবে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দূর্বৃত্তরা। সে সময় ওই আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ওই ছাত্রীর বাবা। আর ঘটনার পর থেকে আতংকে অসুস্থ্য হয়ে শয্যাশায়ী এখন ওই ছাত্রীর মা। ওই ঘটনার পর গতকাল শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজবাড়ী থানার পুলিশ সদস্যরা।
সরজমিনে ওই ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে দেখাযায়, ওই বাড়ীতে এলাকাবাসীর ভীর। উপস্থিত সকলেই বলছেন, যে ঘটনা গত শুক্রবার রাতে এ বাড়ীতে ঘটেছে, তাতে এলাকাবাসী যথা সময়ে উপস্থিত না হলে ওই বাড়ীর বসত ঘরটি আগুনে ভস্মিভূত হতো এবং ঘরে ওই ছাত্রী ও তার মা, বাবা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যেত।
সে সময় ওই ছাত্রী জানায়, সে তার বাবা-মার এক মাত্র সন্তান। পড়ে জেলা শহরের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। দীর্ঘ দিন ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের বিবাহিত এক যুবক (২০) উত্ত্যক্ত করে আসছে। ঈদ উল আযহার আগেও উত্ত্যক্ত করেছে।
সে আরো বলে, তাদের বাড়ীতে একটি টিনের ঘর রয়েছে। ওই ঘরের এক রুমে সে এবং অন্য রুমে তার বাবা,মা থাকেন। গত শুক্রবার রাতে সে তার নিজ ঘরের খাটে ঘুমিয়ে ছিলো। রাত ১টার দিকে হঠাৎ করেই সে তার রুমের খাটের পাশে দাউ দাউ করে আগুন জ¦লতে দেখে চিৎকার শুরু করে। এক পর্যায়ে তার বাবা ও মা এসে ওই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। তবে তারা ঘরের একটি দরোজা বাইরে থেকে আটকানো থাকলেও অন্যটি খুলে বাইরে বের হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে ওই আগুন নেভাতে সক্ষম হন। আগুন নেভাতে গিয়ে ওই ছাত্রীর বাবার ডান হাতের বেশ কিছু অংশ ঝলসে যায় এবং তার আতংকিত মা অসুস্থ্য হয়ে পরেন। তাকে গতকাল বিকাল পর্যন্তও চিকিৎসা সেবা দিতে দেখা যায়।
ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, অজ্ঞাত পরিচয়ের দূর্বৃত্তরা তার বাড়ীতে প্রবেশ করে ঘরের দু’টি দরোজাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রথমে পেট্রোল ছিটিয়ে দেয়। এর পর ঘরের মধ্যে বেশ কিছু শুকনা পাট এবং বাঁশের লাঠির মাথায় মশাল জ¦ালিয়ে তা তার ঘুমন্ত মেয়ের খাটের দিকে ছুড়ে মারা হয়। এতে মেয়ের রুমের ঘরের পাট কাঠির সিলিংসহ রুমের ভেতরে আগুন ধরে যায়। আগুনে পাট কাটি পোড়ার শব্দে তার মেয়ে ঘুম থেকে জেগে যায় এবং চিৎকার করে। তিনি ও তার স্ত্রীর মেয়ের চিৎকারে তার রুমে প্রবেশ করতে গিয়েই দেখেন আগুন জ¦লছে। কোন উপায় না দেখে তার নিজ রুমের দরোজা খুলে বাইরে বের হবার চেষ্টা করইে বুঝতে পারেন দূর্বৃত্তরা বাইরে থেকে ওই দরোজার সিকল আটকে রেখে গেছে। যে কারণে মেয়ে রুমের দরোজা খুলে বের হবার চেষ্টা চালান এবং আগুনের মধ্য দিয়েই মেয়ে ও তার মাকে ঘরের বাইরে বের করে আনতে সক্ষম হন।
ঘটনাস্থলে আসা ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, এ পরিবারটি একটা নির্মম ঘটনার সম্মুখিন হতে যাচ্ছিল। তবে তার এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেছে। যারা এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুজে বের করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
ঘটনাস্থলে যাওয়া রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার মিয়া বলেন, পরিবারটির পাশে থানা পুলিশের সদস্যরা দাঁড়িয়েছে। ওই ছাত্রীর বাবাকে থানায় মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে। তারা দূর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যেই অভিযান শুরু করেছেন।

(Visited 521 times, 1 visits today)