ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষক হলেন পাংশার গোলাপজান নেছা-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার মাগুড়াডাঙ্গী আব্দুল মাজেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাপজান নেছা। এর আগে গোলাপজান নেছা রাজবাড়ী জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়ে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ে অংশ গ্রহণ করেন এবং গত ১২ সেপ্টেম্বর তার নাম ঘোষনা করা হয়। তার এ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে জেলা শিক্ষা অফিসার তৌহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ হবার পর জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রার্থী হওয়া গোলাপজান নেছা বলেন, তিনি ভিশন খুশি। তার কর্ম তাকে এ পর্যন্ত এনে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১৯৯৩ সালের ২৪ নভেম্বর তিনি রাজবাড়ীর বেতকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতী পান ২০০৩ সালে ১৩ মার্চ। নানা স্কুল ডিঙ্গিয়ে ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী তিনি পাংশা পৌরসভার মাগুড়াডাঙ্গী আব্দুল মাজেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। কাজের প্রতিফলনও তিনি পেয়েছেন। ২০০৮, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে তিনি পঞ্চম বারের মত জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হন। তবে এবারই প্রথম তিনি ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হলেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে শিক্ষার্থী উপস্থিতিতে তিনি জেলার সেরা হয়েছিলেন। আর নৈশ স্কুল পরিচালনার জন্য ২০১১ সালে ১৯ অক্টোবর রাজবাড়ীর জেলা জজ গোলাম আলী ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা সাহানা বারী তার স্কুল পরিদর্শন করেনি তাকে উৎসায়িত করেছিলেন। ২০১৬ সালের ২১-২৯ অক্টোবর তিনি সরকারী ভাবে শ্রীলংকা সফরও করেছেন। তিনি এ অর্জন ভবিষ্যতেও ধরে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তার স্বামী ও পাংশার আইডয়াল গালস কলেজের প্রভাষক শাহ মোঃ রাশেদুল ইসলাম তপন বলেন, ২০১০ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি গোলাপজান নেছাকে বিয়ে করেন। তবে নেই তাদের কোন সন্তান। গোলাপজান তার বাড়ী আসার পর থেকেই ধ্যান ও জ্ঞান হলো বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাবী করে গড়ে তোলাসহ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করা। এখনো তার বাড়ীতে প্রতিরাতে ২৫/৩০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে এসে ঘুমিয়ে থাকে। এ সব শিক্ষার্থীরা মূলত স্বল্প মেধাবী এবং পড়াশোনায় অমনোযোগী। প্রথম দিকে কিছুটা বিরক্ত লাগলেও যখন দেখি ওই সব শিক্ষার্থীরা তার স্ত্রীর কারণে ভাল ফলাফল করছে তখন নিজেকে ধন্য বলেও মনে হয়।
জেলা শিক্ষা অফিসার তৌহিদুল ইসলাম জানান, গোলাপজান নেছা তার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি, উপস্থিতি, বৃত্তি পরীক্ষায় ভাল ফল, রাত্রিকালীন পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা, নিজ বাড়িতে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাঠদান, ঝড়ে পড়ারোধ, ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি অধিক মনযোগ, বিদ্যালয়ে ফুল বাগান স্থাপনসহ পরিবেশ আকর্ষনীয় করে তোলা, পাঠদানে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করার কারণেই তিনি পাঁচ বার রাজবাড়ী জেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা হয়েছে। সেই সাথে এবার তিনি ঢাকা বিভাগের ১৭টি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা এবং এবারই তিনি জাতীয় পর্যায়ের সাত টি বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা হবার লড়াইয়ে অংশ গ্রহণ করছেন। তিনি মনে করেন, গোলাপজান নেছা তার নিজ যোগ্যতায় এ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তিনি আরো এগিয়ে যাবেন বলেও আসা করেন।

(Visited 1,044 times, 1 visits today)