রাজবাড়ীর তিন কিলোমিটার এলাকায় ভাঙ্গন অব্যাহত –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARI - (4)-04.09

 

পানি কমলেও কমেনি ভাঙ্গন।তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের সাথে পেরে উঠছেন না ভাঙ্গন ককবলিত এলাকাবাসি। রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা, দেওয়ান বাড়ী ,লাল গোলা,নয়ন সুখ,ও অন্তার মোর এলাকা জুরে এখনও অব্যাহত রয়েছে তীব্র ভাঙ্গন।যার কারনে এ পর্যন্ত সাত থেকে আটশ পরিবার নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু কিছু জায়গায় স্কুল ও বাধ রক্ষায় কাজ করলেও এলাকাবাসিদের দাবি তাদের বসত বাড়ী ও মাঠের জমি রক্ষায় কোন কাজ করছেনা। জেলার এমপি, উপজেলার কর্মকর্তা, সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা,শুধু পরিদর্শন এসে দেখে চলে যায়, শান্তনার বানি শুনিয়ে যায় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করেনা। ঐ এলাকার মোহাম্মদ আলী মাষ্টার জানান আজ প্রায় দুই মাস যাবৎ নদী ভাঙ্গন শুরু হলেও সরকারি লোক ও এমপি সাহেবরা শুধু দেখে চলে যান, আমাদের বাড়ী ঘর নদীতে ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে, এ পর্যন্ত আটশ পরিবার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে অথচ এর জন্য তাদের কোন আফসোস হয়না,তিনি আরো বলেন, আমরা যদি বাস্ত হারা হয়ে যাই কোথায় গীয়ে উঠব বলতে পারছিনা, যদি এখন থেকে এই ভাঙ্গন রোধে এই এলাকায় সরকার কাজ না করে তাহলে বেরিবাধ সহ রাজবাড়ী শহর নদী গর্ভে বিলিন হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এই দিকে উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ উড়াকান্দা জামে মসজিদ, এই প্রতিষ্ঠান গুলো রয়েছে চরম হুমকির মুখে,যদিও এই প্রতিষ্ঠান গুলো রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড পদক্ষেপ নিলেও বর্তমানে উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাঙ্গন রোধে পাঁচ দিন যাবৎ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না।ঐ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জহুরুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক দিজেন্দ্রনাথ দাশ জানান স্কুল রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার মোঃ শামীমকে কাজ দিয়েছিল যার প্রথম ভাগে ২৫ লক্ষ ও দ্বতীয় ভাগে ৪০ লক্ষ টাকার কাজ আসলেও ঐ ঠিকাদার নাম মাত্র কাজ করে চলে যায় বলে জানান।, এখন যদি স্কুলটি নদী গর্ভে চলে যায় তাহলে এর দায় সম্পুন্য ঐ ঠিকাদারকেই নিতে হবে বলে জানান স্কুল কতৃপক্ষ। স্কুল টি রক্ষায় এ পর্যন্ত বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয় ৬৬৮২ বস্তা, যার খরচ সহ প্রতি বস্তায় ৪৪০ টাকা ধরা হয়। তবে হিসাব করে দেখাযায় এ পর্যন্ত ৬৬৮২ জিও বস্তা ডাম্পিংয়ে উনত্রিশ লক্ষ চল্লিশ হাজার আশি (২৯,৪০,০৮০) টাকা খরচ হয়েছে। অথচ অবশিষ্ট টাকা দিয়ে ডাম্পিংয়ের কাজ করা হলে ঐ স্কুলটি ভালোভাবে রক্ষা করা যেত বলে জানান স্কুল কমিটি ও এলাকাবাসি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রোকৌওশলী (এসডিও) নুরুন্নবী জানান, তারা ভাঙ্গন রোধে চারশত মিটার এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে সব জায়গায় একত্রে কাজকরা সম্ভব হয়ে ওঠেনি, যার কারনে এলাকার তিন কিলোমিটার জুরে যে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় আটশ পরিবার নদীতে বিলিন হয়ে গেছে এ জন্য তারা কিছু করতে পারেননি, তবে আগামী শুকনা মৌসুমে ভাঙ্গন রোধে ও বেরিবাধ রক্ষায় সরকারের কাছে দুইশ কোটি টাকার কাজ চেয়ে মন্ত্রনালয়ে প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে, তা যদি একনেকে পাশ হয়ে চলে আসে তাহলে আগামী শুকনা মৌসুমে ভাঙ্গন রক্ষায় কাজ করতে পারবেন বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা।

(Visited 132 times, 1 visits today)